‘ব্যক্তির পরিচয় দেখে দুদক কাজ করে না’

দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ক্ষমতাসীনদের প্রতি সংস্থাটির নমনীয় মনোভাব এবং বিরোধীদের হয়রানি করা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)’র এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মাইডাস সেন্টারে আয়োজিতএক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপর করা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র তুলে ধরেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের গ্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম ও সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদকের ক্ষমতা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দলের রাজনীতিকদের হয়রানি করা এবং ক্ষমতাসীন দল-জোটের রাজনীতিকদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে দুদকের বিরুদ্ধে।

অবশ্য এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে দুদক। দুর্নীতির মাত্রা বিবেচনায় ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্ত করে তারা, ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান দেখে কাজ করে না – বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দুদক নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ—টিআইবি’র এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত এ মন্তব্য করেন।

দুদক নিয়ে প্রকাশিত টিআইবি’র প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়েছে, দুদক বিরোধী দলের রাজনীতিকদের হয়রানি এবং ক্ষমতাসীন দল ও জোটের রাজনীতিকদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত বলেন, ‘দুদক কারো উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয় না। ক্ষমতাসীন দলের লোকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক। কমিশন নিজেদের সিদ্ধান্তে চলে, সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে।’
দুদক সচিব আরও বলেন, ‘কারও ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয় সেটাও খেয়াল রাখে দুদক। সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিষয়ে দুদক কাজ করছে।’