প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে প্রয়োগ হয় তার দায়িত্ব সকলের: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

‘লন্ডনী খালের ওপর সেতু, সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না’ শিরোনামে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নির্মিত পাকা সেতু নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গণমাধ্যমে। এ প্রতিবেদনটির প্রতি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সংবাদের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রæয়ারি) সেতু এলাকা পরিদর্শনে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান। এসময় তিনি জনবান্ধব প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য প্রতিবেদক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

এসময় মন্ত্রী বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমিসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব উন্নয় কাজে প্রধানমন্ত্রী যে বরাদ্ধ দেন, সেগুলো যেন সঠিকভাবে প্রয়োগ এবং প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয় সেটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের সকলের। রাস্তা, ব্রীজ, বিদ্যুৎসহ সকল সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গৃহহীনদের জন্য ঘর দেয়া হচ্ছে। আগে টিনশেড ঘর দেয়া হয়েছে। এখন থেকে আধাপাকা ঘর দেয়া হবে।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, নেত্রী এতো উন্নয়ন করছেন আর সেখানে একটি সংযোগ সড়কের অভাবে এই এলাকার মানুষ কষ্ট করবে, তা প্রধানমন্ত্রী মেনে নিতে পারছেন না। তাই তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন দ্রæত এই সমস্যা সমাধান করার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি এখানে এসেছি। ইতিমধ্যেই অনেকাংশ রাস্তার কাজ হয়েছে। বাকি কাজটুকু অতি দ্রæত সম্পন্ন হয়ে যাবে। আগামী বর্ষায় চলাচলে আর এলাকাবাসীকে কষ্ট করতে হবেনা।

পরিদর্শকালে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুরের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মহসীন, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমান, সহকারী একান্ড সচিব ডাঃ শামীম আহাম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান, ইউএনও সেঁজুতি ধর, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন অফিসার আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা আক্তার রুবী, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর, বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিব উল্লাহ, ইউপি মেম্বার এখলাছ উদ্দিন নয়ন ও আজমল হোসেন।

উল্লেখ্য প্রতিমন্ত্রীর আসার সংবাদে সোমবার গভীররাত থেকে শুরু হয় সেতু এলাকায় মাটি ভরাট কার্যক্রম। উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোফাজ্জল হোসেন খান দিনরাত সেখানে উপস্থিত থেকে সেই সেতু’র দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ সোহেল রানা পাপ্পু, ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিন নয়ন ও আজমল হোসেন ছিলেন রাতভর সেই ব্রিজের মাটিভরাটে।

২০১৭/১৮ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের বায়রাউড়া গ্রামে লন্ডনী খালের ওপর নির্মিত হয় ৩২ফুট দৈর্ঘ্য পাকা এই সেতু। ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫শ ৯৫ টাকা নির্মাণ ব্যয়ে সেতু নিমাণ করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠিন নান্দাইলের মের্সাস নিলয় এন্টারপ্রাইজ।

প্রায় একবছর আগেই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্ত সেতু পার হতে দু’পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটি পানিবেষ্টিত হয়ে পড়ে ছিল। ফলে বায়রাউড়া, পাছারকান্দা, কোনাপাড়া, দারিয়াপুর, অচিন্তপুর বীরপুর গ্রামের বাসিন্দারা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতো।