দিল্লিতে মসজিদে আগুন দিয়েছে আন্দোলনকারীরা

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে জ্বলছে দিল্লি। সিএএ’র পক্ষে আন্দোলনকারীরা দিল্লির একটি মসজিদে আগুন দিয়েছে। এ সময় মসজিদটিতে জাফরান রঙের পতাকাও বেঁধে দেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াইরের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির অশোক নগরে অবস্থিত একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকে। শুধু তাই নয়, তারা জাফরান রঙের পতাকাও বেঁধে দেন মসজিদটিতে। সাধারণত হনুমান পতাকা জাফরান রঙের হয়ে থাকে।

এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রানা আইয়ুব নামে এক ব্যক্তি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এ ঘটনার ভিডিও শেয়ার করেছেন।

সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘কর্তৃপক্ষের দ্বারা সত্যায়িত হওয়ার পর এই ভিডিওটি আবার পোস্ট করা হলো। এই ভিডিও দিল্লি থেকে করা। কিছু লোক মসজিদের উপরে ওঠে ভাঙচুর চালায় এবং জাফরান রঙের পতাকা উড়িয়ে দেয়।’

দিল্লিতে সিএএ নিয়ে সংঘর্ষে গত সোমবারের সংঘর্ষে মারা গিয়েছিলেন পাঁচজন। এর মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত আরও ১৫ জন নিহতের খবর আসে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দিল্লির অব্যাহত এ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।

গতকাল উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ দেখা দেয়। বিভিন্ন বিল্ডিং থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। দিল্লির রাস্তায় লাঠি, ভাঙা কাঁচের টুকরা, ইট-পাথর পড়ে থাকতে দেখা যায়।

রোববার, সোমবারের মতো মঙ্গলবারের সংঘর্ষেও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাদের অবশ্য মাঠে নামতে দেখা গেছে। পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। চাঁদবাগ ও ভজনপুরা এলাকায় বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের ছবিও ধরা পড়েছে।

মঙ্গলবার রাতে জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, কারওয়াল নগরে কারিফিউ জারি করা হয়। এসব এলাকায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনের দাবি উঠেছিল। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যথেষ্ট পুলিশ নামানো হয়েছে। এখনই সেনা নামানোর দরকার নেই।

গতকাল মঙ্গলবার মধ্য রাতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করেন দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি এস মুরলীধরের বাড়িতে শুনানি করেন দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। জরুরি ভিত্তিতে হওয়া ও শুনানিতে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ প্রদান করেন দিল্লি হাইকোর্ট। আজ দুপুর ২ টা ১৫ মিনিটে দিল্লি হাইকোর্ট ফের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় বৈঠকে বসেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গতকাল মঙ্গলবার সংঘর্ষস্থল থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা যায়নি তাকে।