বুট পালিশ করা সেই সানি আজ পঁচিশ লাখ টাকার মালিক

ছোটবেলা থেকেই গান পাগল ছিল সানি হিন্দুস্তানি। ছেলেটির বাবা নানক রাম কি বুঝতে পেয়েছিলেন তার সেই ছোট্ট ছেলে একদিন হয়ে উঠবে গান দুনিয়ার নতুন সেনসেশন?

গেল রোববার ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চ থেকে সেরার শিরোপা জিতে বাড়ি গিয়েছে সানি। সঙ্গে পঁচিশ লাখ টাকার চেক। গাড়ি এবং টি-সিরিজের সঙ্গে গান গাওয়ার এক বছরের চুক্তি!

১৯৯৮ সালে পাঞ্জাবের ভাতিন্ডায় জন্ম সানির। অভাবের সংসার। বাবার একার আয়ে দিন চলে কোনো রকমে। হঠাৎ বাবা মারা যান। সানিকে নিয়ে তখন হিমশিম খাচ্ছিলেন মা সোমা দেবী। এমন এক অবস্থায় পেটের দায়ে বেলুন বিক্রি শুরু করেন তিনি। তাতেও সংসারের হাল ফেরে না।

বাবা বাজারে রেখে গিয়েছেন আড়াই লাখ টাকা দেনা। দাঁড়াতেই হবে মায়ের পাশে। ছোট সানির হারমোনিয়াম বাজানো হাত তুলে নেয় বুট পালিশের সরঞ্জাম। তার নতুন আস্তানা হয় ভাতিন্ডার বাসস্ট্যান্ড।

তবে স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি সানি। রাতে বাড়ি ফিরে হাতে বাজতে থাকত সা-রে-গা-মা। ক্লান্ত গলায় সে গান ধরত। একদিন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে আসে ছেলেটি। চোখে একরাশ স্বপ্ন। নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ। সেই রিয়েলিটি শো-র মঞ্চে তার প্রথম গাওয়া গান ‘আফরিন’।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। অবশেষে এলো ফাইনালের রাত। বাকি দুই প্রতিযোগী রোহিত রাউত এবং পশ্চিমবঙ্গের অঙ্কনা মুখোপাধ্যায়ও জোর টক্কর দিয়ে যাচ্ছে।

সানি গেয়ে উঠলেন, ‘মেরে রসকে কোমর’…বিচারকরা হতবাক। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পালা। ঘোষক বললেন, ইন্ডিয়ান আইডল ১১-র বিজেতা সানি… হিন্দুস্তানি…।

আনন্দে চিৎকার করে উঠলেন দর্শকেরা। সানি কাঁদছেন। আনন্দবাজার পত্রিকা