আমাদের ব্যাংকে টাকা নেই- একথা সত্য নয় : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আমাদের ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা দিয়ে ছয় মাসের খাদ্য কেনা যাবে। আমাদের ব্যাংকে টাকা নেই- একথা সত্য নয়। টাকা না থাকলে আমরা এতোগুলো উন্নয়ন কাজ কীভাবে করছি বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

আজ মঙ্গলবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। টাকা আছে বলেই আমরা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব ব্যথা সব কষ্ট সহ্য করে একটা জিনিসই শুধু চিন্তা করেছি, আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করেছেন যে মানুষের জন্য, সেই সাধারণ মানুষের জীবনটা যেন সুন্দর হয়। সেজন্য নিজের জীবনের সব ব্যথা সবকিছু মুখে চেপে রেখে আমি দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। শুধু একটা কারণে, আমি চাই দেশটা যেন এগিয়ে যায়।

তিনি বলেন, যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করল তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) নির্মমভাবে হত্যা করলো। বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছে তাদের নেতাকে, আমি ও আমার বোন হারিয়েছি বাবাকে। খুনিদের বিচার পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। বিচারের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, খুনিদের সবাই তো উৎসাহিত করেছেন। খালেদা জিয়া ভোট চুরি করে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করে কর্নেল রশিদকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসায়। জেনারেল এরশাদ খুনি ফারুককে পার্টি করতে দেয়, ফ্রিডম পার্টি করে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি কারো প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে চলি না বা প্রতিশোধ নিতেও যাইনি। যেখানে অন্যায় হয়েছে, ন্যায় করার চেষ্টা করেছি। ১৯৭৫ সালের খুনিদের বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। সন্ত্রাস-দুর্নীতিবাজ, মাদকের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি—চালিয়ে যাব।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্ষকদের ধরিয়ে দিন। কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারা পশুর চেয়েও খারাপ। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি, কাউকে-ই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, ধর্ষণকারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, তাদের ধরিয়ে দিন। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে ধরিয়ে দিন। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।