চীনফেরত শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের লুকোচুরি

‘করোনা ভাইরাস’ আক্রান্ত সন্দেহে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চীন ফেরত এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলেও রিপোর্ট নিয়ে লুকোচুরি করছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

গতকাল সোমবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন রাতে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। তখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। কিন্তু রাতে রিপোর্ট পাওয়ার কথা জানালেও কি পেয়েছেন তা তিনি জানাতে চাননি। এ নিয়ে সংবাদকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি চীনের জিয়াংসু শহরে একটি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন। ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে আসেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি জ্বর, কাশি ও ঘাড় ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও দু’দফায় হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। কিন্তু পুলিশের মাধ্যমে খুঁজে এনে তাকে ১৬ ফেব্রুয়ারি সদর হাসপাতালের ৫ম তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত চিকিৎসক-নার্স ব্যতীত অন্য কেউ রোগীর পাশে যাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও নিরাপত্তার অভাবে যে কেউ সেখানে যাতায়াত করতে পারছেন।

সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট টেলিফোনে জানানো হয়েছে। আপাতত তার যে জ্বর তাতে মনে হচ্ছে না করোনা ভাইরাস। তবুও তাকে তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। সে বাড়িতে থাকবে। তবে তার খাবার জিনিসপত্র, ঘুমানোর স্থান এবং টয়লেট সবকিছুই আলাদা করে রাখতে হবে। অন্তত তার অবজারভেশন পিরিয়ড পর্যন্ত তার সবকিছু আলাদা থাকবে। তবে পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।