চীনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অপরিবর্তিত: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

চীনের একটি সড়কে মাস্ক পরা নারী ও শিশু। ছবি: রয়টার্স
চীনের বাইরে করোনাভাইরাস সেভাবে ছড়াচ্ছে না, তবে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশে এর ভয়াবহতা থামছেই না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে। করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের হারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গত বুধবার হুবেই প্রদেশে রেকর্ডসংখ্যক ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দিন।

চীনের বাইরে জাপানে করোনাভাইরাসের কারণে অবরুদ্ধ করে রাখা একটি যাত্রীবাহী জাহাজ ছাড়া আর কোথাও আক্রান্তের বড় ধরনের কোনো খবর নেই। ওই জাহাজটির আরও ৪৪ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে এখন আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ২১৮ জন।

ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগের নাম দিয়েছে কোভিড-১৯।

জাপানে করোনাভাইরাসের কারণে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে আটকে পড়া যাত্রী ও ক্রু। ছবি: এএফপি
জাপানে করোনাভাইরাসের কারণে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে আটকে পড়া যাত্রী ও ক্রু। ছবি: এএফপি
গত বুধবার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির পর হুবেই প্রদেশে ভাইরাসটি ছড়ানো স্থিতিশীল রয়েছে। প্রদেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে এখন দেশটিতে এখন মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫০ জনে। আর আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার।

আজ শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান মাইক রায়ান বলেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো অনেক। ১৪ হাজার ৮৪০ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু বিশদভাবে লোকজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কারণে হুবেই প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখাচ্ছে। এটা প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে না। প্রাদুর্ভাবের উপকেন্দ্রে রোগটি নিয়ে তদন্তের জন্য সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল চীনে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
চীনের বাইরে ২৪ টি দেশে ৪৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন দুজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া নারীর বয়স ছিল ৮০ বছর। তিনি টোকিওর দক্ষিণ-পশ্চিমে কানাগাওয়াতে থাকতেন। জাপানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ওই নারীর চীনের হুবেই প্রদেশের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না।

ভিয়েতনামের একটি গ্রামে ছয়জন করোনাভাইরাস রোগে শনাক্ত হওয়ার পর ১০ হাজার লোককে আলাদা রাখা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
ভিয়েতনামের একটি গ্রামে ছয়জন করোনাভাইরাস রোগে শনাক্ত হওয়ার পর ১০ হাজার লোককে আলাদা রাখা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
এদিকে জাপানের ইয়োকোহামায় পৃথক করে রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের জাহাজটিতে ৩ হাজার ৭০০ যাত্রী ও ক্রু রয়েছেন। সবাইকে এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের ভূখণ্ডে নামিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর জাহাজে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের কেবিনে আটকে রয়েছেন।
জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো বলেছেন, শুক্রবারের মধ্যে জাহাজ থেকে নেমে আসার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে ওই ব্যক্তিদের সরকার প্রদত্ত আবাসে থাকতে হবে।
তবে দেশটি জানিয়েছে, ৮০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী কোনো যাত্রীর করোনাভাইরাস নেগেটিভ এলে তাঁদের জাহাজ থেকে নামতে দেওয়া হবে।