এবার আসামে বন্ধ হচ্ছে মাদ্রাসা

ভারতের আসাম রাজ্যে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। রাজ্যের বিজেপি সরকার আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করবে বলে জানা গেছে।

আসামের শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করছে ভারতের নাগরিক সমাজ।

তবে শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাফাই গেয়ে বলেন, ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ এবং আরবির মতো ভাষা শিশুদের শেখানো কোনো ধর্মনিরপেক্ষ সরকারের কাজ নয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ২০১৭ সালে মাদ্রাসার পাশাপাশি সংস্কৃতি কেন্দ্র বোর্ডকে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। এবার তা পুরোপুরি বন্ধই করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বলেন, এখানে কোনো স্বতন্ত্র বোর্ড ছাড়া প্রায় ১২০০ মাদরাসা ও ২০০ সংস্কৃতি চলছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরাও ম্যাট্রিকুলেশন বা উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সনদ পায় বলে অনেক সমস্যার তৈরি হয়। সেজন্য আমরা এসব মাদরাসা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রকে সাধারণ বিদ্যালয়ে রূপান্তর করছি।

আর এ রাজ্যে যে ২ হাজার বেসরকারি মাদ্রাসা আছে, সেগুলোকেও কড়া নিয়ম-কানুনের আওতায় আনা হবে বলে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মাদরাসা বন্ধে বিজেপি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা চলছে আসামসহ ভারতের বিভিন্ন পরিসরে। সেখানকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুসলিম-বিদ্বেষী মানসিকতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মদ্রাসা বন্ধের আগে মুসলিম সংখ্যালঘুদে বিতাড়িত করার উদ্দেশ্য থেকে রোজ্যটিতে বিতর্কিত নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশ করা হয়। আসাম হচ্ছে ভারতের প্রথম রাজ্য যেখানে এনআরসি তালিকা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ আগস্ট আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায় এ থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে বাঙালি মুসলিম হিন্দুর সংখ্যাই বেশি।

এই তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর ভারত জুড়ে সমালোচিত হয়ে আসছে মোদি সরকার। এর মধ্যেই তারা গত বছরের শেষ নাগাদ বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করেছে, যা নিয়ে এখনও ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলছে বিক্ষোভ।