মারজুক রাসেলের অটোগ্রাফ নিতে ৫০০ টাকা ঘুষ!

“আমি তখন ভিড় সামলাতে পারছিলাম না। লোকজন পারলে স্টলের ভেতর ঢুকে যায়। ভিড়ের কারণে আমি তো প্রায়ই ছিটকে স্টলের বাইরেই চলে যাচ্ছিলাম। সেই সময় লাইনে গলদঘর্ম একজন কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বললেন, ‘ভাই আমাকে মারজুক ভাইয়ের অটোগ্রাফসহ বই দেন আমি বাড়তি ৫০০ টাকা দিচ্ছি।

‘ আমি তাঁর প্রস্তাব শুনে থ, এরপরেও কতজনের যে আবদার সেসব মেটাতে পারিনি। তবে সিলেট থেকে আসা দুইজনের মধ্যে একজনকে নিজের একটা কাজের জন্য রাখা এক কপি বই দিয়ে দিয়েছি।”

তখন রাত নয়টা পেরিয়ে গেছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার সংলগ্ন লেকের ধারে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন বায়ান্ন’র একজন সেলসম্যান। তখন মেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মারজুক রাসেলের বই শেষ হয়েছে তারও ঘণ্টা দেড়েক আগে। মেলায় মারজুকের প্রবেশের পূর্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্বে যেখানে অন্বেষা, উৎস, অনিন্দ্য’র প্যাভিলিয়ন তার সামনে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ রয়েছে।

সবুজ মাঠসহ পুরো এলাকাজুড়ে কয়েক হাজার ভক্ত অপেক্ষা করছিলেন কখন কবি মারজুক রাসেল আসবেন। মাঝে মধ্যে নানা ধরনের শ্লোগান শোনা যাচ্ছিল। মাগরিবের পর মারজুক রাসেল মেলাতে ঢুকতেই বিশাল একটি দল তাঁকে মিছিলসহকারে নিয়ে আসেন। এরপর পাঠকদের লাইন ধরে দাঁড়াতে বলা হয়। একটি, দু’টি, তিনটি লাইন হয়ে যায়।

কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে কি বই পাওয়া যাবে? হই হুল্লোড়, বই নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলতেই থাকে। স্টলে থাকা ৬০০ কপি বই শেষ হয়ে যায়। বাকিরা বই না পেয়ে হতাশ হয়। ধীরে ধীরে দুঃখ মন নিয়ে ফিরে যায়। অনেকেই অকারণে মারজুককে ঘিরে ধরে থাকে, দুই-একটি কথা শুনতে চায়, ছবি তুলতে চায়।

জানা গেছে, অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে এসেছিলেন। কিন্তু বই না কষ্ট হচ্ছে। জানালেন আক্ষেপ। তবে ফের আসবেন বলেও জানালেন অনেকেই।

মারজুক রাসেল এসব কাণ্ড কারখানার প্রতিক্রিয়ায় বলছেন, ‘ওরা আমাকে নানান পরিচয়ে ভালোবাসে তাই আসছে, বই নিচ্ছে ,ছবি তুলছে,দুই-চাইর কথা বলছে,শুনছে; এইরকম চলছে আরকী।’

মারজুক দীর্ঘ বিরতির পর এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করলেন কাব্যগ্রন্থ ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’, যেটিকে তিনি বলছেন ‘গ-নির্বাচিত কবিতার বই’। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজীব দত্ত। বইটি প্রকাশ করেছে বায়ান্ন। মেলার প্রথমদিন থেকেই বইটির কাটতি বেশ।

কবি, গীতিকার,অভিনেতা মারজুক রাসেল। গত শতকের নব্বই দশকে আবির্ভূত এই কবির পূর্বপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৪টি । নিয়মিত কবিতা লিখলেও বিগত ১৫ বছরে নতুন কোনো বই প্রকাশিত হয়নি তাঁর। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশ করলেন কাব্যগ্রন্থ ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর।’