সড়ক যখন মরণফাঁদ!

রাঙ্গাবালি প্রতিনিধিঃঃ
মাটি গুলো ধুয়ে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চলাচল করছে যানবাহন। তাই পিছু ছাড়ছে না ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
এমন অবস্থা পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা চরমোন্তাজের স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাদ্রাসা, স্কুল ও বাজার সংলগ্ন সড়কের। চরমোন্তাজ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে শুরু করে মধ্য চরমোন্তাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে পাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মাটি ধুয়েগিয়ে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
তাই দ্রুত এ সড়কটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানাগেছে, চরমোন্তাজ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বাজার সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হতে ২০১১-১২ অর্থবছরে স্যাপ দি চিলড্রেন দ্বারা দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করে যুব উন্নয়ন।
এতে বেলে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। যার কারণে চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই সড়কটির মাটি গুলো বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর আর এই সড়কটি সংস্কার করা হয়নি। এ ছাড়াও একটি কুচক্র মহল সড়কের অধিকাংশ যায়গা কেটে পানি নিষ্কাসনের কারণে গর্তের আকার আরো বড় হতে থাকে। দিনের বেলা মানুষ চলাচল করলেও রাতের আঁধারে খানাখন্দে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহন গুলোও শিকার হয় দুর্ঘটনার।

এ সড়কটির উপর নির্ভর করে চরমোন্তাজ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মধ্য চরমোন্তাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরমোন্তাজ ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসা শিক্ষার্থী,চরমোন্তাজের প্রাণকেন্দ্র ৪ নং সুইজ বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে আসা সহস্রধিক লোক।

শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীর পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটিতে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করতে না পারায় দূরের পথ থেকে এসে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে রুগীদের সেবা নিতে কষ্ট হচ্ছে।

যার দরুণ অনেক শিক্ষার্থীর বন্ধ হয়ে যায় স্কুল-মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া।
এছাড়ও এ এলাকার মানুষ কৃষিনির্ভর। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য উপজেলা সদর, গলাচিপা ও জেলা সদরে নিয়ে যেতে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হয়।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চরমোন্তাজ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও রাঙ্গাবালী উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোঃ রাসেল খান বলেন, সড়কটিতে বড় বড় খানাখন্দ থাকায় কৃষকদের কৃষিপণ্য যানবাহন মালিকরা বহন করতে অপারগতা প্রকাশ করে থাকেন। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কের মাঝখান যেন কূপ ও জলাশয়ে পরিণত হয়। প্রতিনিয়তই সেখানে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করে।

চরমোন্তাজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রবিন নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম এম এ মতিন প্যাদার ছেলে মোঃ মনির প্যাদা বলেন, রাস্তাটি বেহাল অল্প দিনের নয়। প্রায় তিন চার বছর ধরেই বেহাল এটি। সামান্য বর্ষা হলেই রাস্তাটি খালে পরিণত হয়। স্কুল-মাদ্রাসাগামী ছাত্রছাত্রীরা ঠিকভাবে স্কুলে যেতে পারে না।
বিশেষ করে এখানে একটি প্রাইমারি স্কুল আছে, যেখানে কোমলমতি শিশুরা লেখাপড়া করছে। সামনে বর্ষা মৌসুম রাস্তাটি এখনই সংস্কার না হলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চরমোন্তাজ ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদক মোঃ সুমন হাওলাদার জানান, এটি চরমোন্তাজ ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে সংস্কারহীন। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার খবর আসে আমাদের কাছে।

ইতি পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকেও অবহিত করেছেন। এখানে কার্পেটিং সড়ক অত্যন্ত প্রয়োজন। সড়কটির কাজ হলে কয়েক হাজার মানুষের দূর্ভোগ লাগব হবে।