নতুন বছরকে বরন করতে কলাপাড়ায় চৈত্রের শেষের দিকে জমে উঠেছে বৈশাখী বাজার!

নাহিদ পারভেজ, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ॥

পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরন করতে কলাপাড়ায় চৈত্রের শেষের দিকে জমে উঠেছে বৈশাখী বাজার। ক্রেতাদের ভিড়ে দম ফেলার ফুসরত নেই বিক্রেতাদের। তাই বাজারের বিপনীবিতানগুলো যেন নতুন করে ফিরে পেয়েছে প্রানচাঞ্চল্যতা।
বৈশাখ মানে আনন্দ, বৈশাখ মানেই উৎসব। জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সব মানুষই মেতে উঠবে বৈশাখী উৎসবে। আর এ উৎসবে মেতে উঠতে সবারই চাই নতুন পোশাক। তাই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বাংলার আবহে তৈরী ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ফ্রিপিস, শাড়ি ও লুঙ্গিসহ বিভিন্ন পোষাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা। অবার অনেক দোকানী দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে বসিয়েছেন বাহারী রংয়ের পোষাক। উপজেলার বিভিন্ন বাজার পাখিমারা, মহিপুর, চাপলী, বাবলাতলা, বানাতী, কলেজ বাজার, নোমরহাটসহ গ্রামগঞ্জের সব পোশাকের দোকান এবং পৌর শহরের দোকানগুলোতে বিক্রির ধুম। অনেক দোকানী দিয়েছেন বড় আকারের মূল্যহ্রাস। তাই এই মূল্যহ্রাসে প্রত্যেক ক্রেতা নিজের পছন্দের পোষাকটি কিনে নিতে ব্যস্ত। শিশু, বৃদ্ধ, কিশোর সবাই ব্যস্ত কেনাকানায়। তবে সব বিতানগুলোতেই নারী ক্রেতাদের ভীড় একটু বেশী। আর এ ক্রেতাদের ভিড়ে কলাপাড়ায় জমে উঠেছে বৈশাখী বাজার।
এদিকে বৈশাখী ছাপ পড়েছে মাছ বাজার থেকে শুরু করে কাচা বাজারেও। বৈশাখে ইলিশের কদর একটু বেশী। বছরের পুরো সময় ইলিশের দাম স্বাভাবিক থাকলেও বৈশাখী হাওয়ায় হু-হু করে বেড়ে দাড়ায় দ্বিগুন। বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়। কাচা বাজারেও বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম।
বৈশাখকে কেন্দ্র করে এবার কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন একদিন ও পৌর প্রশাসন পাঁচ দিন ব্যাপী মেলার আয়োজন করেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসবে এই বৈশাখী মেলা। প্রতিদিন দুপুর দুইটা থেকে সন্ধা আটটা পর্যন্ত চলবে বৈশাখী মেলা। এদিকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করেছে বৈশাখী অনুষ্ঠানের। এবারের বৈশাখের প্রথম ভোরে কুয়াকাটা সৈকতে পান্তা ইলিশের আয়োজন করেছে ট্যুর অপারেটর এ্যাসোশিয়েশন(টোয়াক)। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করবে হোটেল মোটেল ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন, কুয়াকাটা তরুন ক্লাবসহ,কুয়াকাটা বয়েস ক্লাব, দেশী-বিদেশী পর্যটকরা।
কলাপাড়া পৌর শহরের ব্যবসায়ী মেসার্স শিমুল বস্ত্রলায় মালিক শফিকুল ইসলাম(শিমুল) বলেন, আমরা প্রায় সব দোকনী দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছি। বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেচা-বিক্রি একটু ভাল। লালুয়া থেকে স্ব-পরিবারে আসা ক্রেতা নুরমোহাম্মাদ(রিদয়) মিয়া বলেন, পোশাকের দাম হাতের নাগালে। তাই পরিবারে সবাই মিলে কেনাকাটা করছি।
কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ফিরোজ শিকদার জানান, পহেলা বৈশাখ বাঙালিদের একটি চিরাচায়িত প্রাচীন ঐতিহ্য। এ উৎসবকে রাঙিয়ে তুলতে দোকানীরা বিভিন্ন পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। দামও একটু কম। ক্রেতাদের ভীড়ও একটু বেশি। ক্রেতারা তাদের চাহিদা মত পছন্দের পোশাক নিচ্ছেন