জলঢাকায় যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চায় পৌরবাসী।

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানঘর।এলাকার প্রভাবশালী আর রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছাঁয়ায় পৌরশহরের বেশ কিছু জায়গায় নিজের ইচ্ছেমত জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করে আসছেন বেশ কিছু ব্যাবসায়ী। আর এসব দোকান ঘরের কারনে গাড়ি যাতায়াতের সময় পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে জ্যাম লেগে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। ফলে যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। ২০০৬ সালে তত্ববধায়ক সরকারের আমলে দেশব্যাপী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে জলঢাকা পৌরশহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও সরকার পরিবর্তনের কয়েক মাস পরে রাতারতি ওই সব ফাঁকা জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। বর্তমানেও এ অবৈধ স্থাপনা দখল অব্যাহত রয়েছে। টিনসেট থেকে রাতারাতি পাকাকরন করছেন অনেকেই। অবৈধ স্থাপনাগুলোর মধ্যে পৌরশহরের কৈমারী রোড থেকে আলম মার্কেট পর্যন্ত,এবং কি ওই আলম মার্কেটের ভিতরেও সরকারি জমি রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। অপর দিকে ট্রাফিক মোড় (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু চত্বর) সাবেক গরু হাটি মাঠটি মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুড়োমাঠটি এখন দখল হয়ে মার্কেটে পরিনত হয়েছে। চাউল পট্টি থেকে জিরো পয়েন্ট মোড়, জিরোপয়েন্ট মোড় থেকে সোনালি ব্যাংক পর্যন্ত, উপজেলা পরিষদ গেট থেকে মেডিকেলের প্রধান গেট পর্যন্ত রাস্তার দুইধারে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক দোকানঘর। রাস্তার ধারে এসব দোকান গড়ে ওঠায় লেগেই থাকছে যানজট। এতে মেডিকেলে জরুরি রোগি নিয়ে আসা যানবাহনগুলো পরে চরম বিপাকে। আর এসব অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য দোকান মালিকদের কয়েকদফা চিঠি দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। ২০০৬ সালে অবৈধ স্থপনা অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদারের মধ্যে মাসুদ রানা,আরমান হোসেন,জিল্লুর রহমান,মোজাফফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন,‘‘আমাদের দোকান ভাঙ্গার পর আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি,কেউ এখন রিকশা চালক আর কেউ বেকার হয়েছি, আমাদের জায়গা দখল করে তারা রাস্তার ধারে দোকান করতেছে সেখানে সরকারি অফিসারদের চোখ পড়ে না?” জলঢাকা মেডিকেলের প্রধান গেট পর্যন্ত রাস্তার ধারে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকনগুলোর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ জেড এ সিদ্দিকী বলেন,‘‘দোকানঘরগুরো উচ্ছেদের জন্য মালিকদের একাধিকবার নোটিশ করেছি এবং রেজুলেশন করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।” এ বিষয়ে পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট বলেন,‘‘প্রসাশনের সহযোগিতা নিয়ে খুব শীঘ্রই সকল অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে এবং তাদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজাউদ্দৌলা বলেন,‘‘ ইতিমধ্যে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করার জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দিয়েছি,খুব শীঘ্রই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যানজট নিরসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন,“যদি অবৈধ স্থাপনা থেকে থাকে তাহলে দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।