স্কুল ড্রেস পরে ক্লাসে না আসায় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করলেন প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্কুল ড্রেস না পরে ক্লাসে আসায় নবম শ্রেনির ছাত্র মোঃ রিপন তালুকদার কে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে নলছিটি উপজেলার ৩ নং কুলকাঠি ইউনিয়নের কুলকাঠি শহিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন হোসেন এর বিরুদ্ধে।আজ রবিবার উক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। আহত রিপন তালুকদার ৭নং পোনাবালিয়া ইউনিয়নের মোঃ ফুরুক তালুকদারের ছেলে।তিনি অসুস্থ থাকায় রিপনের মা বিলকিস বেগম
জানান, অর্থের অভাবে ছেলেকে স্কুল ড্রেস কিনে দিতে পারিনি আর মহিউদ্দিন স্যার ড্রেস না পড়া দেখতেই ছেলেকে ক্লাসের মধ্যেই চর, থাপ্পর ও বেত দিয়ে মারাত্নক ভাবে পিটিয়েছে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী রিপন জানায়, মহিউদ্দিন স্যারকে অনেক অনুরোধ করেছি আগামীকাল থেকে যেভাবেই হোক স্কুলে নিয়মিত ড্রেস পড়ে আসবো কিন্ত স্যার আমার কোন কথাই শুনেনি প্রথমে আমাকে এসেম্বলি থেকে বের করে দিয়েছে পরে ক্লাসে পড়ার সময় স্যার আমার ড্রেস না পেয়ে খুব পেটায় এবং স্কুল থেকে বের করে দেয়। তাৎক্ষনিক আহত রিপন তার বাবা, মা ও স্কুল কমিটির সভাপতি মনির হোসেনকে বিষয়টি জানান।স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির হোসেন জানান, রিপনকে পেটানোর ফলে ওর শরীরে মারাত্নক ভাব কেটে গেছে। কমিটির পক্ষ থেকে আমরা প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবো। এছাড়া এর আগেও একাধিক ছাত্রকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।
এছাড়াও উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের চুলকেটে দেয়া, এস.এস.সি পরিক্ষার প্রবেশপত্র,সার্টিফিকেট আনতে গেলে শিক্ষার্থী প্রতি ৩০০-৫০০ টাকা করে নেয়া সহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি, সাগর নামে উক্ত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ২০১৭ সালের এসএসসি পরিক্ষার সার্টিফিকেট আনতে গেলে ৩০০ টাকা জোর পুর্বক দাবি করে।অন্যথায় সার্টিফিকেট দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয় রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলাম।
সাগর জানায়,আমি সার্টিফিকেট আনতে গেলে ৩০০ টাকা না দিতে পারায় সার্টিফিকেট দেয়না সাইফুল স্যার বলে মহিউদ্দিন স্যার টাকা ছাড়া সার্টিফিকেট দিতে নিষেধ করেছে। পরবর্তীতে বাসায় গিয়ে ৩০০ টাকা নিয়ে স্যারকে দিলে সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়।একই শিক্ষাবর্সের মশিউর নামে এক শিক্ষার্থী তার চাকরির জন্য সার্টিফিকেট আনতে গেলে একই আচরন করে সাইফুল ইসলাম।
এবং মশিউর টাকা দিতে নারাজি জানালে গাল, মন্দ এবং সার্টিফিকেট দিবেনা বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয়টি জানতে পেরে পত্রিকার এক সাংবাদিক প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে ওই সাংবাদিককে নানান ভাবে হয়রানি ও লাঞ্চিত করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানান, ‘যা করেছি রিপনের মঙ্গল ও ভালোর জন্য করেছি।’আর আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা।তাছাড়াও রিপন সে এমনিতেও ঠিকমত ক্লাস করে না ও ড্রেস পড়ে আসেনি তাই তাকে এসেম্বলি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।তাকে একাধিক বার ড্রেস পরে আসতে বলার পরেও অন্য ড্রেস পরে আসে। এছাড়া রিপনকে বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি একাধিকবার জানতে চাইলে প্রতিবারই তিনি ছবে বলে কৌশলে এড়িয়ে যান। তবে এ পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেন উক্ত স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনির হোসেন। তিনি পুনরায় প্রতিবেদককে ফোন করে পত্রিকায় না প্রকাশের জন্য জোর তাগিদ দেয়।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান,এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম কে দায়িত্ব দিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা করে।