বিনোদনের ফেরিওয়ালারা দেখা দিলেন সিলেটে

হঠাৎ করেই সিলেটের উইকেট হয়ে উঠল পুরোপুরি ব্যাটিং-অনুকূল। লিটন দাস ওপেনিংয়ে সাব্বির রহমানকে সঙ্গী করে নেমে অনুকূল উইকেটের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার করলেন। একটু বোধ হয় অবিচারই করা হচ্ছে। লিটন দাস, ডেভিড ওয়ার্নাররা সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ যে ধরনের ব্যাটিং করলেন, তাতে কারণ হিসেবে কেবল উইকেটের উদাহরণ টেনে আনাটাই অবিচার। নিজেদের প্রতিভার পুরোটাই ঢেলে দিলেন তাঁরা। হাসি ফুটবল সিলেটবাসীর। হাসি ফুটল সিলেট সিক্সার্স-ম্যানেজমেন্টের। টসে জিতে বোলিং বেছে নিয়ে ভুলই কি করলেন মাশরাফি! নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৫ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে যে ১৮৭ রানের দারুণ এক সংগ্রহ দেখছে সিলেট।

লিটন ৪৩ বল খেলে করেছেন ৭০ রান করেছেন। রান আউটের দুর্ভাগ্যে পড়তে না হলে নিজের সংগ্রহটাকে নিশ্চিত করেই আরও বড় দেখতেন। তেমনই খেলছিলেন তিনি। পুরো ইনিংসে কোনো সুযোগ দেননি। হার মানেননি ডেভিড ওয়ার্নারও। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ বলে ৬১ রানের প্রত্যাশিত এক ইনিংস। ১৯ তম ওভারে গেইলের বলে বাঁ হাতি ওয়ার্নার হঠাৎই ‘ডান হাতি’ হয়ে গেলেন। কিন্তু সিলেটের দর্শকেরা ঠিকই তাঁর কাছ থেকে দেখেছে একটি ছক্কা ও দুটি চার। যেকোনো হাতেই যে ওয়ার্নার খেলতে পারেন, সেটির প্রমাণ তিনি বিশ্বকে দিয়ে দিলেন।

অস্ট্রেলীয় তারকার ব্যাটিং এমন হয়েছে যে রংপুরের অধিনায়ক মাশরাফি ঠিক কীভাবে ফিল্ডিং সাজাবেন সেটি ভেবে পাচ্ছিলেন না। শেষ ওভারের তিনটি বল তিনি খেলতে পারেননি সতীর্থদের ব্যর্থতায়। এই তিনটি বলের পূর্ণ ব্যবহার ওয়ার্নার করতে পারলে সিলেটের সংগ্রহটা আরও বাড়ত। দর্শকেরা নিশ্চিত করেই আরও আনন্দ পেতেন। রংপুরের বোলারদের প্রায় সবাই ছিলেন আজ খরচে। মোটকথা বিপিএল শুরুর দিন থেকে বোলারদের যে একটা প্রচ্ছন্ন দাপট দেখে আসছিল, আজ সন্ধ্যায় সিলেটে ঘটেছে তার ঠিক উল্টোটা। এবারের বিপিএলে এত অসহায় বোলারদের আর কখনোই দেখা যায়নি।

ইনিংসের শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন লিটন। একটি ছক্কা মাঠের বাইরে নিয়ে ফেলেছিলেন। যেটি ছিল ৭৫ মিটার দীর্ঘ। সঙ্গে ছিলেন সাব্বির। বিপিএলে ব্যাটিংটাই যেন ভুলে গিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। তবে আজ সাব্বির কিন্তু ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইনিংসটাকে বড় করার একটা ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন বটে, কিন্তু বেনি হাওয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে তাঁর ইনিংসটির অপমৃত্যুই ঘটেছে। তবে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে তিনি ২০ বলে ২০ রান করেছেন। ছিল একটি করে চার ও ছক্কার মার।

লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি চার। প্রতিটিই দেখার মতো। নিকোলাস পুরানও নিজের সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছেন ১৬ বলে ২৬ রানের একটা ইনিংস খেলে। ক্যারিবীয় পুরানের ব্যাট থেকে আসে ৩টি চার ও একটি ছয়।

রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি ছিলেন বেজায় খরচে—৩ ওভার বোলিং করে ৪৩ রান দিয়েছেন তিনি। সোহাগ গাজী ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেট-শূন্য। হাওয়েল, গেইল—সবাই খরচে। তবে ফরহাদ রেজা বেশ ভালো বোলিং করেছেন। সিলেটের ব্যাটসম্যানরা তাঁর বলই যা একটু সমীহের চোখে খেলেছে। কিন্তু পরের দিকে মাশরাফি তাঁকে আর কেন আনলেন না সেটি বোঝা গেল না। শফিউল নিয়েছেন ৩ উইকেট, ৩১ রানের খরচায়। পুরান বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই ফিরিয়েছেন তাঁকে, বোল্ড করে। শেষ ওভারে আফিফের উইকেটটিও নিয়েছেন তিনি। সিলেটের ৫ উইকেটের ৩টিই নিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই পেসার।