ঐক্যফ্রন্টের বীভৎস চেহারা বেরিয়ে আসছে

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের পালস না বুঝে বিভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। এ কারণে জনগণকে বিএনপি-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে বিএনপি-জামায়াত, ঐক্যফ্রন্টের কালো টাকার প্রভাব, সন্ত্রাস, নাশকতা ও সহিংস রূপ ততই উন্মোচিত হচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির নানক এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ন্যায়নীতি ও সততার মুখোশ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে বীভৎস চেহারা। গতকাল রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে র‍্যাবের হাতে আট কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেক এবং তারেক রহমানের ছবি সংবলিত বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার পাওয়া গেছে। পাশাপাশি টাকার সঙ্গে ঢাকার একটি আসনের সব ভোটারের নাম ঠিকানা সংবলিত তালিকাসহ হাওয়া ভবনের কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি বলেন, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের পক্ষে প্রায় ‘দেড় শ’ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। যেসব অর্থ দুর্নীতিবাজ দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমানের মাধ্যমে দুবাই থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নানক বলেন, দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র ও নির্বাচনবিরোধী চক্রান্ত এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের অপতৎপরতা, নির্বাচনকে প্রভাবিত ও প্রশ্নবিদ্ধ এবং সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতেই এ টাকা পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, আদর্শিক সংকট থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৈতিক উত্তরণ না ঘটলে বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ফিরিয়ে আনা কি এত সহজ?

নির্বাচন কমিশন ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে নানক বলেন, কামাল হোসেনরা নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নানারকম উসকানি দিলেও নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ড. কামাল হোসেনরা লাল কার্ড পাওয়ার মতো একাধিক ফাউল করলেও নির্বাচন কমিশন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে অত্যন্ত নমনীয় ভূমিকা পালন করছে।

দলের পক্ষে নানক আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব দলকে গণতান্ত্রিক ও আইনসিদ্ধ আচরণ করতে হবে। গত কয়েক দিনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ফোনালাপ শোনা গেছে। সেখানে তাঁরা তাদের কর্মীদের কীভাবে নাশকতা ও সহিংসতা সৃষ্টির নির্দেশনা দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেছি।

বিএনপির পক্ষ থেকে সিইসির পদত্যাগ দাবির বিষয়ে নানক বলেন, শুরু থেকেই বিএনপির একটি কৌশল ছিল নির্বাচনকে ভন্ডুল করে দেওয়ার জন্য। নির্বাচনের তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চাওয়া মানে, তাদের অপকৌশলকে সফল করার চেষ্টা।

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আসলে বিএনপি যে কী করতে চাচ্ছে, আমরা এবং দেশবাসী বুঝে উঠতে পারছে না। কারণ তারা একদিকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, আরেকদিকে তাদের প্রার্থীরা মাঠে নামছেন না, তাদের প্রার্থীরা পোস্টার লাগাচ্ছেন না। আরেকদিকে বলছেন তারা নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।