বিএনপি দেশ ধ্বংস করবে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকা মানে উন্নয়ন। ধানের শীষ মানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, লুটপাট, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসন্ত্রাস। তারা (বিএনপি) স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের নমিনেশন (মনোনয়ন) দিয়েছে।

যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমরা শাস্তি দিয়েছি, তাদের নিয়ে নির্বাচনে অংশীদার হয়েছে। তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংস করবে। সব অর্জন নস্যাৎ করবে, কারণ এরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

শনিবার বিকালে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সারা দেশে দলীয় মনোনয়নের নামে ব্যাপক হারে বাণিজ্য করেছে- এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তারা একেক সিটে ৪-৫ জনকে নমিনেশন দিয়েছে। অকশনে তুলেছে নমিনেশন। যারা বেশি টাকা হাঁকিয়েছে, তারাই পেয়েছে নমিনেশন। এজন্য তাদের ছেড়াবেড়া অবস্থা।

বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ইনাম আহমেদ সাহেব আমাকে এসব বলেছেন। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ও লন্ডনে বসে নাটাই ঘোরায়, যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আল্লাহ যদি সুযোগ দেয়, ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ধরে এনে বাংলাদেশে রায় কার্যকর করব। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলতে দেব না।

এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানে সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছালে জেলা ও মহানগর নেতারা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

সিলেট পৌঁছানোর পর শেখ হাসিনা হজরত শাহজালাল (রহ), হজরত শাহপরান (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গাজী বোরহান উদ্দিন (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। তিন ওলির মাজার জিয়ারতের সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী কোরআন তেলাওয়াত করেন। এরপর তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে বিশ্রাম নেন। সেখানে নামাজ ও মধ্যাহ্ন ভোজের পর বেলা তিনটা ১০ মিনিটে তিনি জনসভা মঞ্চে আসেন।

বিকাল ৪টা ২ মিনিটে ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় সিলেটকে ঘিরে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা এবং দুর্নীতিবাজ-স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষায় নৌকার পক্ষে ভোট চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে আগের মতোই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও জনগণের অর্থ আত্মসাতের মতো ঘটনা ঘটবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ডিসেম্বর মাস আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাস, নৌকার বিজয়ের মাস। এই বিজয়ের মাসে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাইতে এসেছি। এই নৌকা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকার মাধ্যমেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে।

বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হারানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে যে সম্মান আমরা পেয়েছিলাম, সেটা নষ্ট করা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে। আমার মা, ভাইসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যাই আমি ও আমার বোন শেখ রেহানা।

২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় এসেই তারা একের পর এক মানুষ হত্যা করে। হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ বহু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে শীর্ষে নিয়ে গেছে, সারা দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে।

সিলেটের চার জেলার সার্বিক উন্নয়নে তার সরকারের ব্যাপক কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হাওর-বাঁওড় এলাকায় সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। সিলেটের শ্রীহট্ট যা সিলেটের আদি নাম, সেই নামে অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছি। চায়ের নিলাম শুধু চট্টগ্রামে হতো, এটা যেন সিলেটেও হয় সেই ব্যবস্থা করেছি। চা শ্রমিকদের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র করে দিয়েছি।

সিলেটের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ব্রিজ, রাস্তাঘাট ব্যাপকভাবে করে দিয়েছি। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। সিলেটসহ প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ব্যবস্থা নিয়েছি। ঢাকা-সিলেট চার লেনের রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সিলেট বিভাগ আমরা দিয়েছি। বিভাগের সব অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সিলেটের জলাবদ্ধতা দূর করতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি।শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা হচ্ছে মানুষের বিপদের বন্ধু। সেই নূহ নবীর আমলের মহাপ্লাবনেও নৌকা মানুষকে রক্ষা করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার, ৯০ ভাগ মানুষের বিদ্যুৎ সুবিধা, সবই পেয়েছে এই নৌকায় ভোট দিয়ে। একটা সময় বিদেশে গেলে বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে পরিচিত করা হতো। আজকে বাংলাদেশ মানে উন্নয়ন, বাংলাদেশ মানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল- এই সময়ে দিনরাত পরিশ্রম করে আমরা এই পর্যায়ে এনেছি। এই দেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাভোগ করছেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বালেন, আমি দুর্নীতি করতে আসিনি। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু সেটা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম বিশ্বব্যাংকের টাকায় নয়, নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করব। সেটা পেরেছি। আর এতেই বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্বের দরবারে অনেক ওপরে উঠেছে। এটি ধরে রাখতে হবে।

১৯ প্রার্থী : জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে সিলেটের চার জেলার মহাজোটের ১৯ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেন- সিলেট-১ আসনের মহাজোট প্রার্থী ড. একে মোমেন, সিলেট-২ আসনে জাপার ইয়াহইয়া চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ আসনের ইমরান আহমদ, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদার ও সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জয়া সেনগুপ্ত, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জাপার পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের মুহিবুর রহমান মানিক, মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-১ আসনের শাহাব উদ্দিন, মৌলভীবাজার-২ আসনের এমএম শাহীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের নেছার আহমদ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুস শহীদ, হবিগঞ্জের ৪টি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনের শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জ-২ আসনের মো. আবদুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মাহবুব আলী।

হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়া পুত্র রেজা কিবরিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটি কথা না বললেই নয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, হবিগঞ্জ-১-এ ধানের শীষ নিয়ে যিনি দাঁড়িয়েছেন, তার পিতার (শাহ এএমএস কিবরিয়া) হত্যাকারী ওই ধানের শীষ। বিএনপি শাহ কিবরিয়াকে হত্যা করেছে। সেই শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে আজকে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকে না।’ এ ঘটনাকে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় উল্লেখ করেন তিনি। পরে তিনি নিজ দল ও মহাজোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান।বক্তব্যের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া ইনাম আহমদকে মঞ্চে খুঁজতে থাকেন। এ সময় সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওনি (ইনাম) কই? তবে ইনাম আহমেদ চৌধুরী তখন মঞ্চে ছিলেন না। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, তাকে (ইনাম) এখানে রাখা দরকার ছিল। সিলেট-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন বঞ্চিত ইনাম আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি শেখ হাসিনার হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। যোগদানের পর শুক্রবার তিনি সিলেট এলে সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে বরণ করেন। এরপর থেকে ইনাম আহমদ চৌধুরী নৌকার পক্ষে প্রচারণায় নামেন।

কামরানের গান : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মঞ্চে উঠলে জনসভার সঞ্চালক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গান ধরেন। তিনি গেয়ে উঠেন, বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বিখ্যাত সেই গানটি ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলমিল করে ময়ূরপঙ্খী নায়’। এরপর বঙ্গবন্ধু কন্যা বক্তব্যের জন্য প্রস্তুত হলে কামরান ‘সোয়া উড়িল উড়িল উড়িল রে’ এই গানটির সুরে আবার গেয়ে উঠেন, ‘নৌকা চলিল চলিল চলিল রে…’ গানটি। এ সময় শেখ হাসিনা পাশ থেকে হাতে তালি দেন। সামনে উপস্থিত জনতায় হাতে তালি দিয়ে ‘গায়ক’ কামরানকে উৎসাহ দেন। শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শুরু করার আগে কামরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এতো ভালো গাও জানতাম না তো।

ব্যক্তিগত খরচে নির্বাচনী সফর : ক্ষমতায় থাকাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শনিবারের সফর ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের পক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের এই প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হলেও এই সফরে সরকারের কোনো আর্থিক সহযোগিতা নেয়া হয়নি। এই সফরের বিমানের ভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যয় বহন করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ছাড়াও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এদিকে, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেট এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সফরে মাজার জিয়ারতের পরে এই আলীয়া মাঠে আলীয়া মাঠেই জনসভা করে এবারের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগাম ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেছিলেন তিনি। ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা অষ্টম সংসদ নির্বাচনের সময় সিলেটের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তবে নবম সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় সিলেট আসেননি। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের সময় তিনি নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত জনসভায় ঢাকা থেকে টেলিকনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন।

জনসভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ১০ বছর আগে শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসেবে এই সিলেট থেকেই মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আপনারা আমাকে জয়ী করেছিলেন। পরে শেখ হাসিনা আমাকে তার সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ড. একে আবদুল মোমেনকে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া দরকার। প্রথমত, মোমেন সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী, দ্বিতীয়ত তিনি আমার কনিষ্ঠ ভাই। দীর্ঘদিন সে বিদেশে থাকলেও দেশের সবকিছুতে অংশগ্রহণ করছে। বাইরে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছে। গত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছে। সে অনেক আগে থেকেই এই দলের জন্য কাজ করে আসছে। গত প্রায় ৩ বছর ধরে সে সিলেটের মাঠে আওয়ামী লীগের হয়ে উন্নয়নের কাজ করছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি এবারে সিলেট-১ আসনে আমার জায়গায় তাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেবেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান। জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. শাহ আলম। এরপর যথাক্রমে গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। সিলেট জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেন, ইমরান আহমদ, হাফিজ আহমদ মজুমদার, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া প্রমুখ।ড. মোমেনের আট দফা দাবি : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে গ্যাস সংযোগসহ আট দফা দাবি উত্থাপন করেছেন সিলেট-১ আসনে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি গত দশ বছরে সিলেটে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি সিলেটের উন্নয়নের প্রতি সব সময় আন্তরিক। সিলেটবাসী আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু সিলেটবাসী আপনার কাছে বেশ কিছু দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। তিনি শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমরা চাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন হবে, ওসমানী বিমানবন্দর সত্যিকারভাবে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে, ২৫০ শয্যার সিলেট সদর হাসপাতাল হবে, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হবে, দৃষ্টিনন্দন সিলেট শহর হবে, গ্যাস সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং সিলেটের নদীভাঙন সমস্যার সমাধান হবে।

দলীয় প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক : সিলেটে সমাবেশ শেষ করার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সিলেট বিভাগের নৌকার প্রার্থীদের নিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টার বৈঠক করেন। বিকাল ৫টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সিলেট ক্লাবে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দলীয় প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে জনগণের আরও কাছে যেতে হবে। নিজেদের মধ্যে অহমিকা জিইয়ে রেখে আমি আমি বলে বসে থাকলে চলবে না। প্রচারণার সময় খুব কম, সবাইকে মিলেমিশে প্রচারণা আরও বেগবান করতে হবে। যেতে হবে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও, যারা ভোটের মালিক। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, বৈঠকে সিলেট বিভাগের নৌকার প্রার্থীরা ছাড়াও জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।