‘সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই উন্নয়নের মডেল হবে বাংলাদেশ’

বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদাহরণযোগ্য উন্নয়নের মডেল হবে বাংলাদেশ। এমন পর্যালোচনাই উঠে আসছে দেশি-বিদেশি নানা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সরকারি নীতি বহাল রাখার স্বার্থেই ধরে রাখতে হবে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাও।

সরকার পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্রীয় নীতিকাঠামোতে পরিবর্তন, উন্নয়ন প্রকল্প থেমে যাওয়া আর আর্থিক ক্ষতির বোঝা, বহু বছর ধরেই এমনই নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি দেখে আসছে বাংলাদেশ। ফলে হোঁচট খেয়েছে উন্নয়নের স্বপ্ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ৬০ টাকার সার ২০ টাকায় বিক্রি করত। বিএনপি এসে সব বন্ধ করে দিলো। যার ফলে, আমরা যেখানে খাদ্যে প্রায়ই স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে গিয়েছিলাম ২০০০ সালে কিন্তু আবার পিছনে পড়ে গেলাম।’

গেল দশ বছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, রেমিট্যান্স কিংবা রিজার্ভ, সবক্ষেত্রেই এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। দেশি বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে আবারও ক্ষমতাসীন হওয়ার জোর দাবিদার আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহীম খালেদ বলেন, ‘আমাদের আশেপাশের দেশ যেমন করছে তার চেয়ে আমরা ভালো করছি। এই কথাগুলো বিভিন্ন অর্গানাইজেশন তাদের পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বের করছে এবং বাইরে বলছে। এমতাবস্থায় আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা থাকাটা ভালো।’

একমত ব্যবসায়ীরাও, বিদেশি বিনিয়োগের গতি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও বেকারত্ব দূরীকরণের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকারেই আস্থা তাদের।

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান বলেন, ‘শেষ পাঁচ বছরে যে পরিমাণ বিনিয়োগ বাংলাদেশে হয়েছে, সেটা বিগত ২০ বছরে হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। দেশে হরতাল-ভাঙচুর বন্ধ হয়ে গেছে। যদি সরকার চেঞ্জ হয় তাহলে নতুন করে দেশের অবস্থা কি হয়, এই চিন্তার ফলে আবার বিনিয়োগ পিছিয়ে যেতে পারে।’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবুল কাশেম খান বলেন, ‘ইনকামিং এফডিআইগুলি কিভাবে ওনারা পরিচালনা করবেন এটিও একটি চ্যালেঞ্জ। এখন যদি এই সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে ওনারা জানেন চ্যালেঞ্জগুলো কী। এটা বাস্তবায়নে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ওনারা এগোবেন।’

বৈদেশিক সাহায্যে নির্ভরতা কাটিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ছাড়িয়েছে সরকারি লক্ষ্যমাত্রাও। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈর্ষণীয় এমন সাফল্যের ইতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত ভোট বাক্সেও।