জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতার বিষয়ে হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন

বিএনপির মনোনয়নে জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অনুরোধ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

এইচ টি ইমাম বলেন, জামায়াতের যাঁরা বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন, তাঁরা জামায়াতের সাংগঠনিক পদধারী। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন ফরমে প্রার্থীদের দলের নাম উল্লেখ করতে হয়। এসব প্রার্থী নিশ্চয়ই দলের নামও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এসব প্রার্থীর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

জামায়াত নেতাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। ইসি জানিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সারা দেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে। অনেকে হতাহত হচ্ছে। বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছি। আমরা কখনো কাউকে আক্রমণ করি না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের দল, আমরা সব সময় আক্রান্ত হই। উল্টো বিএনপি–জামায়াত অভিযোগ করে যাচ্ছে, তাদের ওপর আমরা হামলা করে যাচ্ছি।’ তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁদের কেউ সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না।

বিএনপির পোস্টারে খালেদা জিয়ার ছবির বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া দণ্ডিত, তিনি এখন বিএনপির দলীয় প্রধান নন। তারেক রহমান দণ্ডিত, তিনি এখন পলাতক। সুতরাং বিএনপি এই দুজনের ছবি ব্যবহার করতে পারবে কি না, তা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ চারটি সংস্থার বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা খান ফাউন্ডেশন, ডেমোক্রেসি ওয়াচ, লাইট হাউস, মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ—এই চারটি সংস্থা সম্পর্কে আমরা আগেই আপত্তি জানিয়েছি। খান ফাউন্ডেশনের মালিক বিএনপির নেতা মঈন খান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের মালিক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শফিক রেহমান ও তাঁর স্ত্রী তালেয়া রেহমান। আর লাইট হাউস সংস্থাটি বগুড়াকেন্দ্রিক। এর প্রতিষ্ঠাতা তারেক রহমান, এই সংস্থাকে বগুড়াতেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘অধিকার একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান। এর অন্যতম কর্ণধার আদিলুর রহমান খান। এই প্রতিষ্ঠানের এখন নিবন্ধন নেই। প্রতিষ্ঠানটি এখন মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদের পক্ষে কাজ করছে। আমরা মনে করি এরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। ফলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইসিকে বলেছি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মওদুদ আহমদ তাঁর কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন লাঠির আগায় ধানের শীষ নিয়ে মিছিল করতে। এ বিষয়ে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কারণ লাঠি হাতে থাকলে সংঘাত হতে পারে।’

ইসি মাহবুব তালুকদার ও সিইসি কে এম নুরুল হুদার মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আস্থার সংকট হবে বলে আমরা মনে করি না। কারণ কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।’

বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নির্বাচনী পোস্টার দেখা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বিএনপি কেন পোস্টার লাগাচ্ছে না, বিষয়টি আমাদের কাছেও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।’