শর্ট বলে ‘অপ্রস্তুত’ বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিলেটে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে শর্ট বলেই টপাটপ বাংলাদেশের উইকেট তুলে নেওয়াকে অব্যর্থ ফর্মুলা বানিয়ে ফেলেছিলেন ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলাররা। টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানই শর্ট বলে উইকেট দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ধরলে সংখ্যাটি পাঁচ ব্যাটসম্যানের। তাই সিলেট থেকে পিছু নিয়ে শর্ট বল দুর্ভাবনা ঢাকায়ও স্বাগতিক শিবিরে কতটা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, সেই কৌতূহল জাগতেই পারে। যদিও দলের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা সৌম্য সরকার আশ্বস্ত করে গেলেন, ড্রেসিংরুমে শর্ট বল নিয়ে ভয় বা আতঙ্ক একদমই নেই।

না থাকার ব্যাপারটিও অবশ্য কম কৌতূহলোদ্দীপক নয়। যে ডেলিভারিতে উইকেট বিলিয়ে আসার মিছিল চলল সিলেটে, তা ড্রেসিংরুমের হাওয়াকে প্রভাবিত করার পক্ষে যথেষ্টই। অন্য চারজনের মতো শর্ট বলে পাল্টা আক্রমণে গিয়ে আউট হওয়া সৌম্য তার একটি ব্যাখ্যাও দেওয়ার চেষ্টা করলেন। সে ব্যাখ্যায় এই উপসংহারেও পৌঁছনো যেতে পারে যে শেল্ডন কটরেল এবং ওশান টমাসের মতো দ্রুতগতির বোলারদের নিজেদের ডেরায় সামলানোর ক্ষেত্রে ‘অপ্রস্তুত’ই হয়ে পড়েছিলেন স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা।

সেই হকচকিয়ে যাওয়াতে নিজেদের অনভ্যাসের দায়ই বেশি দেখেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘আমরা কিন্তু শর্ট বল খেলায় অনেক উন্নতিও করেছি। শেষ কয়েক ম্যাচে আমরা শর্ট বলে তেমন আউটও হইনি। আসলে আমাদের কন্ডিশনে আমরা বেশির ভাগ সময় স্পিন খেলি। সেখানে হুট করে একজন গতিময় বোলারকে খেলতে গেলে শুরুতে তাই একটু সমস্যা হতেই পারে।’ সমস্যা হয়েছে সৌম্যরও। তবে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে যে তাঁরা আর অপ্রস্তুত নন, সেটিও বোঝানোর চেষ্টা থাকল তাঁর কথায়, ‘এর সঙ্গে (শর্ট বল) আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। ভয়ের কিছু নেই।’

অভয় দেওয়ার কাজটি সৌম্যকেই করে যেতে হলো, কারণ দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও সংবাদ সম্মেলনে আসেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে-পরেও নয়। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন শুরুর পরপরই নেটে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের ইয়র্কারে পায়ের পাতায় চোট পেয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে। সে জন্য ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও আসেননি। ম্যাচ হারার পরেও তাই। এবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির আগের দিনও জ্বরের কারণে অনুশীলন করলেন না অধিনায়ক। তার ওপর প্রথম ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা গোনার পাশাপাশি একটি ‘ডিমেরিট’ পয়েন্টও পেয়েছেন তিনি। কাজেই দলের ব্যাটিং থেকে শুরু করে নিজের অসুস্থতা ও শাস্তি মিলিয়ে বিরক্ত হয়ে থাকার অনেক কারণই আছে অধিনায়কের।

প্রথম ম্যাচের পর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন নিয়েও। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও সংবাদ সম্মেলনে না আসায় তাঁর ভাবনার বিস্তারিত জানা গেল না। তাঁর বদলে যিনি এলেন, সেই সৌম্যর ভাষায় শর্ট বলে উইকেট দিলেও তাঁরা একই সঙ্গে সাহসিকতার পরিচয়ও দিতে পেরেছেন, ‘শর্ট বল খেলা তো সাহসিকতার ব্যাপার। ওরা শর্ট বল করছিল, আমরা দৌড়ে মারতে গিয়েছি। এটা সাহসের ব্যাপার যে আমরা শর্ট বলেও জোরে মারতে গিয়েছি। পিছিয়ে গিয়ে আউট হলে হয়তো বলা যেত যে আমরা ভয়ে আউট হয়েছি।’

অবশ্য শর্ট বল অন্যভাবে সামলানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও মানছেন তিনি, ‘আমরা যদি আরো বুদ্ধি খাটিয়ে, আরেকটু মাথা খাটিয়ে প্লেসিং করার চেষ্টা করতাম এবং টাইমিং করে খেলতাম, তাহলে ভালো হতো।’ একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে শর্ট বল না খেলে ছেড়ে দেওয়ারও সুযোগ দেখেন না তিনি, ‘টেস্ট ম্যাচ হলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে শর্ট বল আপনাকে খেলতেই হবে। না হলে স্কোরিংয়ের একটি বিকল্পও কমে যাবে আপনার।’

সেটি কমাতে চান না সৌম্যরা। একই সঙ্গে প্রথম ম্যাচের মতো এগিয়ে এসে চড়াও না হয়ে মাথা খাটিয়ে অন্যভাবে খেলার তাগিদও আছে তাঁদের। প্রথম ম্যাচের ভুল শুধরে নেওয়ার তাড়নাও শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমরা হয়তো একটু তাড়াহুড়া করে ফেলেছি। উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ায় আমাদের পরে ধীরগতিতে ব্যাটিং করতে হয়েছে। আমরা যদি শুরুতে একটি উইকেট হারিয়ে খেলতে পারতাম, তাহলে ৬ থেকে ১০ ওভারের মধ্যে আরো বেশি রান আসত। শেষের ১০ ওভারে উইকেট রেখে খেললে বড় স্কোরই করতাম আমরা।’

শর্ট বলে ‘অপ্রস্তুত’ বাংলাদেশ এবার সেই প্রস্তুতি নিয়েই নামছে সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে!