‘স্বাধীনতার শতবর্ষ উদ্‌যাপন হবে আ. লীগের নেতৃত্বেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি তো আমাদের নেতৃত্বেই হবে। ২০৭১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’ নবীন ভোটারদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘শতবর্ষের অনুষ্ঠানে তো আর আমরা বয়স্করা থাকব না। তোমাদেরই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। এখন থেকেই তোমাদের সে প্রস্তুতি নিতে হবে।’ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বান্দরবান আসনের ভোটারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ উপলক্ষে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বান্দরবান আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ক্যশৈঅং, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্যশৈহ্লা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, যুগ্ম সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাশসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিল।

ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে একজন নতুন ভোটারের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জীবনমান ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি করেছি।’ তিনি বলেন, পর্যটন এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বান্দরবানকে গড়ে তোলা হবে।

এ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই বান্দরবানবাসীকে সংযুক্ত করায় শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানান।

সৈয়দ আশরাফের জন্য দোয়া ও ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা

এদিকে কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশারাফুল ইসলামের জন্য দোয়া ও ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে ভিডিও কনফারেন্সে এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গত পাঁচ বছরে কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সৈয়দ আশরাফ দেশের সম্পদ। তিন ওয়ান-ইলেভেনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আজ অসুস্থ। তাই নিজেদের নির্বাচন মনে করে তাঁকে ভোট দিয়ে জয়ী করুন। তিনি যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারেন, সেই দোয়া করুন। এ সময় তিনি কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীকে জয়ী করার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কিশোরগঞ্জবাসীর উদ্দেশে আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে বারবার জয়ী করার ঐতিহ্য রয়েছে কিশোরগঞ্জবাসীর। তাই এবার নৌকায় ভোট দিয়ে সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয়, দেশ এগিয়ে যায়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় দুপুর থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা স্টেডিয়ামে জড়ো হতে থাকে। সাড়ে ৪টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনসভা শুরু হয়। প্রথমেই আওয়ামী লীগ প্রধান নৌকার প্রার্থী সৈয়দ আশরাফের ভাই ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলামের বক্তব্য শুনতে চান। পরে একে একে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দলীয় প্রার্থী নূর মোহাম্মদ, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মহাজোট প্রার্থী মুজিবুল হক চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের দলীয় প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল আহসান শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক এম এ আফজল, কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, আতাউর রহমান, শরীফ সাদীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

জনসভায় স্থানীয় বক্তারা বলেন, সৈয়দ আশরাফ কিশোরগঞ্জবাসীর কাছে এক আবেগ, অনুভূতি ও মূল্যবোধের নাম। তাঁর সততার জন্য গর্ব করে কিশোরগঞ্জবাসী। তাই সুস্থ সৈয়দ আশারাফের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অসুস্থ সৈয়দ আশরাফ। এবারও তাঁকে কিশোরগঞ্জ ও হোসনপুরবাসী বিপুল ভোটে জয়ী করবে।

এ আসনে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু। সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ হয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। তার পরও দল থেকে এ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ আশারাফের ভাই-বোনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

মাশরাফির পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স ও জনসভা স্থগিত

এদিকে নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই আসনের প্রার্থী মাশরাফিও প্রথমবারের মতো ভোটারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।