আওয়ামী লীগ করবে ২১ ‘বিশেষ’ অঙ্গীকার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২১টি ‘বিশেষ’ অঙ্গীকার নিয়ে আসছে। তাদের এসব অঙ্গীকার আজ মঙ্গলবার ঘোষিত ইশতেহারে তুলে ধরা হবে। আর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নকাল হচ্ছে ২০১৯ থেকে ২০২৩—এই পাঁচ বছর।   

আওয়ামী লীগ এই ইশতেহারের নাম দিয়েছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ।’ আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি হোটেলে এই ইশতেহার প্রকাশ করবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এযাবৎ হওয়া ১০টি সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আটটিতে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয় দলটি। শেষের তিনটিতেই দলের নেতৃত্ব দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ প্রকাশিতব্য ইশতেহারে বিভিন্ন মেয়াদে সরকারে থাকার সময়কার অর্জনগুলো তুলে ধরা হবে। এর পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের সময়কার নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হবে। আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, এবারের ইশতেহারের মূল বিষয় তারুণ্য এবং গ্রামের উন্নয়ন।

যে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার করবে দলটি, এর প্রথমেই আছে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা দেওয়া। এরপরই থাকছে তরুণ-যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের (শূন্য সহিষ্ণুতা) নীতি গ্রহণ দলটির অন্যতম অঙ্গীকার হিসেবে থাকছে।

এই ইশতেহারে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীদের জন্য বিশেষ অঙ্গীকার থাকছে। আর তা হলো নারীর ক্ষমতা, লিঙ্গসমতা ও শিশুকল্যাণ। আওয়ামী লীগ এর আগে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার অঙ্গীকার করেছিল। এবার দলটি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তার অঙ্গীকার করবে।

সরকারের শেষ মেয়াদে চলতি বছর মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছিল। এবারের ইশতেহারে এ নিয়ে অঙ্গীকার করেছে দলটি। সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদের পাশাপাশি মাদক নির্মূল করার অঙ্গীকার আছে তাদের।

এই সরকার পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব মেগা প্রকল্পের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন করতে চায় আগামী পাঁচ বছরে।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, দারিদ্র্য নির্মূল, সব স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তার অঙ্গীকার করবে আওয়ামী লীগ।

দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দাবি করে ৬৯ বছরের পুরোনো এই দল। এবার তাদের অঙ্গীকার আধুনিক কৃষিব্যবস্থা সম্প্রসারণ। যার লক্ষ্য হবে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ।

পাশাপাশি অঙ্গীকারে থাকছে দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কথা।  

গত ১০ বছরে দুই দফায় মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমাসংক্রান্ত দুটি আন্তর্জাতিক সালিসিতে সাফল্য অর্জন করে সরকার। ব্লু-ইকোনমি এবং সমুদ্র উন্নয়ন থাকছে আগামীর অঙ্গীকার।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে শিশু–কিশোরদের আন্দোলন হয় এ বছরই। নির্বাচনী ইশতেহারে নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তার অঙ্গীকার করছে দলটি।

এ ছাড়া প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিকদের কল্যাণ অন্যতম অঙ্গীকার। ২১টি বিশেষ অঙ্গীকারের শেষটি হলো টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন আর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন।