সিলেটে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে অসুস্থ জাফরুল্লাহ!

আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনী সিলেটে প্রচারণায় গিয়ে আবারও বঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকদের কাছে ধাওয়া খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ অনুভব করলে চিকিৎসকের নিষেধ সত্ত্বে তিনি আবারও নির্বাচনী প্রচারে বের হন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় ধানের শীষের প্রচারপত্র বিতরণকালে হঠাৎ স্থানীয় বিএনপির বঞ্চিত এক প্রার্থীর সমর্থকরা হৈ হৈ করে ‘বেঈমান বেঈমান’ বলে তাড়া করে তাকে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ওই অবস্থাতেই দৌড় দেন। অনেকটা পথ দৌড়ানোর পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তার সাথের বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে নগরীর পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আবারও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতাল ছেড়ে তিনি গোপালগঞ্জের দিকে রওনা দেন।

এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা ও সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সাথে। তিনি ধাওয়ার বিষয়টি এড়িযে গিয়ে জানান, ওটা তেমন কিছু না। একটা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। সিলেটে ঐক্যফ্রন্ট একতাবদ্ধ। বিদ্রোহী বলে কেউ নাই এখানে।

সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে লোদী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির টেনশনে পড়ে ডা. জাফরুল্লাহর নিম্ন রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পপুলার হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সুধাংশু রঞ্জন দে’র তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসক বলেছেন- তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এ অবস্থায় তার বের হওয়া ঠিক হবে না। ফের যে কোনো সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।’

প্রসঙ্গত, ডা. জাফরুল্লাহ এর আগে গত ১০ ডিসেম্বরও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়েছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির সমর্থকদের কাছে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে যেতে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়া আমার কাজ না, আমি বিএনপির কেউ নই।’

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রচারে বুধবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে সিলেটের জৈন্তাপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ও শহরতলির মোগলাবাজারে জেএসডি সভাপতি আ স ম রব ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অংশ নেন।