‘দাঁড়িপাল্লাকে বাঁচাতে বিএনপির ত্যাগ স্বীকার আত্মহননের মত’

jamayat-bnp

নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ৮টিতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াতের নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মান্ধ জামায়াতকে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার যে সুনাম অর্জিত হয়েছে তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আর নিবন্ধন বাতিল হওয়া এ দলটিকে আবারও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।

খুলনা বিভাগে মোট আসন সংখ্যা ৩৬টি। ২০ দলীয় জোট শরীক দল জামায়াতকে ৮টি এবং জমিয়াতে ওলামায়ে ইসলামকে একটি করে মোট ৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। খুলনা বিভাগে ছেড়ে দেয়া আসনগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপি শক্ত অবস্থানে থাকলেও জামায়াতের দাবির কাছে নত স্বীকার করে। এতে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা ও তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। জামায়াত প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় সাধারণ মানুষ এ বিষয়টিকে দেখছেন নেতিবাচক হিসেবে।   

স্থানীয় এক ভোটার বলেন, ‘জামায়াতে যারা আছে, তারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, তাদের আবার উজ্জীবিত করে দিল বিএনপি।’    

জামায়াত প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টিকে অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দুর্বলতা বলে মনে করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এই নেতার।

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি সভাপতি ডা: বাহালুল আলম বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি একসূত্রে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থান থেকে তারা এক জায়গায়। আজকে যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্য থাকতো তবে জামায়াত কোনভাবেই দাঁড়াতে পারবো না।’

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ বিষয়টিকে বিএনপির বড় ধরণের বিচ্যুতি বলে মনে করছেন। পাশাপাশি তরুণ ভোটাররা ধানের শীষের প্রতীকে ভোট প্রদানে নিরুৎসাহিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লাকে বাঁচানোর জন্য বিএনপির এই যে তথাকথিত ত্যাগ স্বীকার তা এক ধরনের আত্মহননের মত। এটা দীর্ঘমেয়াদী ভাল ফল দেবে না।’

খুলনা বিভাগে মোট ১৩টি দল জোটবদ্ধ এবং একক ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।