দক্ষ দেখে পক্ষ নিতে তরুণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান

নেতৃত্ব কার হাতে থাকলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, তা বিবেচনায় রেখে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এক অনুষ্ঠান থেকে।

দেশের ব্যবসায়ী সমাজের উদ্যোগে সোমবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উন্নয়নের জন্য নৌকার পক্ষে ভোট চান ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার ঢাকার কেআইবি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ‘হ্যাশট্যাগ আইএমবাংলাদেশ (#Iambangladesh) মঞ্চ’।

এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, সামাজিক সংগঠন অপরাজেয় বাংলা এই মঞ্চের সূচনা করে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান,বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, অপরাজেয় বাংলার সভাপতি এইচ আর রহমান মিলু, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, ডা. নুজহাত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ পরিচালক ফরহাদ আনোয়ার, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া ও সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা ছিলেন অনুষ্ঠানের মঞ্চে।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ছাত্র, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ভোটার আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করেন। কেউ কেউ প্রার্থী সম্পর্কেও মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, “শেখ হাসিনা হচ্ছেন সেই নেত্রী, যিনি জনগণের হৃদয়ের কথা বুঝতে পারেন। দেশের কোন প্রান্তে কী সমস্যা রয়েছে, কোন দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ, সেটা তিনি ভালো করেই জানেন, সবই তার নখদর্পনে।

“আজকে বাংলাদেশে আরও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সেই সমস্যাগুলোকে দূর করতে পারে কেবল একটি নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্ব হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেন, “আগামীতে সবাই উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবে বলে আমার প্রত্যাশা। সেই উন্নয়নের পক্ষের মার্কা হচ্ছে নৌকা। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।”

অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “এবারের নির্বাচনে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ রয়েছে, যারা জীবনে প্রথমবারের মতো সরকার নির্বাচিত করবে।

“তোমরা শুধু উন্নয়নের পক্ষে থাকবে, শান্তির পক্ষে থাকবে। বর্তমানে যেভাবে দেশটা গড়ার পরিকল্পনা চলছে, তার সব সুফল তোমরাই ভোগ করবে।”

অনুষ্ঠানে কয়েক তরুণদের বক্তব্যে ২০১৪ সালে  বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজেদের ভোট দিতে না পারার আক্ষেপের কথা উঠে আসে।

হাতিরঝিল থেকে আসা আরিফ বলেন, “২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন  বর্জন করার প্রেক্ষাপটে অনেকে ভোট দিতে পারে নাই। আবার সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও এইলোকগুলো ভোট দিতে পারেনি। তরুণরা ভোট দেওয়ার সুযোগ না পেলে শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে তাদের মত কীভাবে প্রকাশ করবে?”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান সাবিক তার নির্বাচনী এলাকার চিত্র তুলে ধরে বলেন, “আমার এলাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে একজনের সম্পদ বেড়েছে ২৩ গুণ, আরেকজনের আয় বেড়েছে ৯৮ শতাংশ।

“তাহলে এই দুইজনের একজনই আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সুষম উন্নয়নের মধ্যে নেই। আমি এটা মানতে পারছি না। এই দুই প্রার্থীর একজনও আমার পছন্দ হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের ওপর আমার আস্থা রয়েছে।”

গাবতলী থেকে আসা নাহিদ সরকার বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো রাস্তা দখল করে তাদের কর্মসূচি দেয়। এটা সাধারণ মানুষের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। আমি সব দলকে এই সাংস্কৃতিক থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজাকে যেভাবে নৌকার পক্ষে পাওয়া গেছে, সাকিবকে সেভাবে সরাসরি পাওয়া যায়নি।

জবাবে সাকিব বলেন, “আমি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুইভাবেই আছি। “  

আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দিলে দেশের উন্নয়ন হবে এবং মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে সেই বিষয়ে আয়োজকদের কাছে জানতে চান সামিয়া মুনা নামের এক শিক্ষার্থী।

জবাবে ব্যবসায়ী নেতা আবুল কাশেম বলেন, “আপনার ভোট যাকে ইচ্ছা দিতে পারেন। তবে তার আগে আপনাকে নানান বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।”

চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, “বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে টিকেটের জন্য যেমন তরুণদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে দেখা যায়, আগামী নির্বাচনেও যেন তারা ভোট দিতে সবার আগে গিয়ে দাঁড়ায়।”