উন্নয়নের কথা মানুষকে বারবার মনে করাতে হবে

ঢাকা:

 দেশের উন্নয়নের কথা মানুষকে বারবার মনে করিয়ে দিতে বলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, মানুষ অনেক সময় ভুলে যায়। আমরা যে উন্নয়ন করেছি। আমাদের সরকারের সময়। সেটা বারবার মনে করিয়ে দিতে হবে মানুষকে।

শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে অবরসরপ্রাপ্ত ৩০৭ সরকারি কর্মকর্তার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে শেখ হাসিনার সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান সাবেক কর্মকর্তারা।

এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। দুই মাস পর পর যেমন ঋতু পরিবর্তন হয়, তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন দেখা দেয়। মানুষ দুঃখের দিনের কথা ভুলে যায়। তাই আমরা চাই, আমরা যে উন্নয়ন করেছি এর ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকুক।

তিনি বলেন, আমরা চাই না খুনিদের দল, যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসুন। এরা ক্ষমতায় অসলে যে উন্নয়ন এতো দিন হয়েছে এবং চলমান আছে, তার গতি থামিয়ে দেবে।

৩০৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে সাবেক মুখ্যসচিব, সিনিয়র সচিব, সচিব, ও বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রদূত এবং পুলিশের কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এদের মধ্যে মুখ্যসচিব, সিনিয়র সচিব, সচিব ও বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান ৫৮ জন, সাবেক রাষ্ট্রদূত ৯ জন, যুগ্ম/উপ-সচিব ৭৫ জন, স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৪ জন, শিক্ষা ক্যাডারের ১৪ জন, প্রকৌশলী ২৭ জন, বন ও ডাক বিভাগের ১১ জন, পুলিশ ক্যাডারের ১০ জন, কর ও তথ্য ক্যাডারের ১৩ জন, কৃষিতে ৬৭ জন, টেলিকম, শুল্ক, রেলওয়ে ও খাদ্যসহ অন্যান্য কাডারের ১১ জন। এ অনুষ্ঠানে তারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানান এবং নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শপথের পরপরই খবর এলো ১৩ জন সচিবকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা হয়েছে। এমনকি অফিস থেকে যারা বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন, তারা অফিসে ফিরে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেবেন, সেই সুযোগটাও দেওয়া হয়নি। সামরিক প্রশাসনও এমনটা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সম্পদ গ্যাস বিক্রিতে রাজি হইনি। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গ্যাস বিক্রি করবে, ভারত সেটা কিনবে। আমি রাজি হইনি। ফলে দুটি দেশেই আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হলো। ফলে ২০০১ সালের নির্বাচনে হাতে তুলে আমাদের হারানো হলো। আমরা কিন্তু ভোটে হারিনি। এতো বাঁধার পরেও আমরা অনেক ভোট পেয়েছি। কিন্তু সিটে আমাদের হারানো হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আমি একটা ডকুমেন্ট পেয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম তখনই চিহ্ন দেওয়া ছিলো যে, কোনো কোনো সিট আওয়ামী লীগকে দেওয়া হবে, আর কোনটি দেওয়া হবে না। কোনোটা লাল, কোনোটা কালো, কোনোটা হলুদ, সবুজ কালিতে দাগ দেওয়া ছিল। এইভাবে তৈরি করা ছিল। সেখান থেকে বোঝা যায় যে নির্বাচনটা তখন কেমন হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই নির্বাচনটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। কিন্তু অনেক অপমাণ-নির্যাতন সহ্য করার পরও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন চাইল, তখন আমরা দিনের পর দিন সময় নিয়ে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসলাম। আমরা যেহেতু জনগণের জন্য কাজ করেছি, জনগণ খুশি হয়ে ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। দেশের ভাগ্যটা পরিবর্তন হোক, আমরা সেটাই চাই। আজকে দেশের মানুষ বুঝতে পারে তাদের জন্য কারা কাজ করেছে। তারপরেও যত কাজই করি না কেন। শুধু কাজ করলেই যে দেশের মানুষ ভোট দেবে, তা কিন্তু না। মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, তাদের বলতে হবে, যে এ সরকার আপনাদের জন্য এ কাজ করেছে। কাজেই এ সরকারকে আগামীতে আবারও ভোট দিতে হবে। এ তথ্য বারবার পৌঁছে দিতে হবে, নইলে বারবার তারা ভুলেই যায়।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে আমরা রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তারপরেও আমরা ভোট পেলাম না। কাজেই শুধু উন্নয়ন করলেই হয় না। মনে করিয়ে দিতে হবে যে, আমরা তাদের জন্য এটা করেছি। কাজেই উন্নয়নের কথা তুলে ধরে মানুষের কাছে ভোট চাইতে হবে। আমরা স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, উন্নত, সোনার বাংলা গড়তে চাই। খুনি, যুদ্ধাপরাধীদের দল আবার ক্ষমতায় আসুক এটা আমরা চাই না। তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে কমিউনিটি ক্লিনিক সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন আমরা যে উন্নয়ন করছি বা যে উন্নয়ন কাজ চলমান আছে সেগুলো মানুষ চায় কি-না? এ উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে- এ কথাগুলো মানুষকে বলতে হবে। আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে না পারি চলমান কাজগুলো হবে না, করবে না। তারা তো স্বাধীনতাই চায়নি, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে কেন।