জাজিরা ও নড়িয়ায় পদ্মার ডানতীর রক্ষা বাধের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

শরীয়তপুর ॥ শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মানদীর ডানতীর রক্ষার জন্য পানি সম্প্দ মন্ত্রনালয় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৯ কিলোমিটার বেড়িবাধ নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ করা হয়। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র আহবান করে নৌবাহিনীকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। রোববার থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৪কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে জিওব্যাগ ফেলানোর মাধ্যমে বেড়িবাধ নির্মান কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ কবির বিন আনোয়ার এ কাজের উদ্বোধন করেছেন। নড়িয়া উপজেলার মুলফৎগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এ কাজ শুরু করা হয়। আগামী বর্ষার পূর্বেই এ কাজের ব্যাপক অগ্রগতি হবে বলে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সচিব বলেছেন যাতে করে আর কোন বাড়ি ঘর ভিটে মাটি না ভাংগে সেদিক লক্ষ্য রেখেই কাজ করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যেই অর্থাৎ তিন বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।তবে এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হবে। কারন নদীশাসন করতে গেলে এক তীর বাধ দিলে অপর তীর ভাঙ্গে। এ কারনে চরআত্রা ও নওয়াপাড়া এলাকায় ও বেড়িবাধ দেয়া হবে।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামূল হক শামীম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহপরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান,ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফয়েজ উদ্দিন,সুপারেনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আঃ হেকিম,শরীয়তপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার,নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন,পৌর মেয়র শহিদুল ইসলাম বাবু রাড়ি নড়িয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির বেপারী ও নাজমা বেগম ,কেদারপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লঅহ সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ থাকে যে গত বর্ষা মৌসুমে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মোক্তারের চর , নড়িয়া পৌর এলাকা পদ্মানদীর গর্ভে বিশাল অংশ বিলীন হয়ে যায়। এতে করে প্রাংয় ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের বাড়ি ঘর ব্যবসা বানিজ্য, রাস্তা ঘাট, ব্রীজ কালভাট , মসজিদ মাদ্রাসা হাট বাজার লঞ্চঘাট বিলীন হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, বেড়িবাধের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশী । আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ হবে। কাজ শেষ হলে আমাদের জমি আমাদের বুঝিয়ে দিবে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামূল হক শামীম বলেন, বেড়িবাধ নির্মান করে ড্রেজারের মাধ্যমে ভাংগন কবলিত এলাকা রিফিলিং করে যার যার জমি তার তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ কবির বিন আনোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এ কাজ শুরু করেছি। যত দ্রুত সম্ভব কাজের অগ্রগতি করা হবে। মানসম্মত কাজ করা হবে। আর যাতে কোন ভাংগনের সৃষ্টি হতে না পারে সে জন্য ব্যবস্থা করা হবে। প্রকল্পের সময়সীমার মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।