ফখরুলের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দূতাবাসে গোপন বৈঠকের অভিযোগ


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে এবার ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেছেন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে তারেক রহমান যেভাবে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার শরণাপন্ন হয়েছেন, ঠিক তার পথেই হেঁটে ঢাকাস্থ পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল গোপন বৈঠক করেছেন।

রোববার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে আবদুর রহমান এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন: বিজয়ের এ মাসে যখন জাতীয় নির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের সাক্ষাৎ জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর আসছে লন্ডনে দুর্নীতির দায়ে দণ্ড মাথায় নিয়ে পালিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক। অন্যদিকে ঢাকাস্থ পাকিস্তানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদেরই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাক্ষাৎ এবং গোপন বৈঠক।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এমন গোপন বৈঠক একাদশ জাতীয় নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ বলছে: তাদের এমন বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়। দুই সাক্ষাৎ একই সূত্রে গাঁথা। দুই নেতার এ গোপন বৈঠকগুলো জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধুলিস্যাৎ করার দুরভিসন্ধি বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।

আবদুর রহমান বলেন: বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে সারাদেশে তাদের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস ও অগ্নিকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের নেতাকর্মীরা পল্টনে এবং গুলশানে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা এবং ভাঙচুর করেছে। তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শুধু হুমকির মুখে ফেলছে না, সামাজিক বিশৃংখলা তৈরি করছে।

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যে দলটি নীতি বিবর্জিত রাজনৈতিক দলের পরিচয় আবারও স্পষ্ট বলে এসময় তিনি মন্তব্য করেন। আর বাণিজ্যের জন্য ফখরুল-রিজভী এবং এদের নেপথ্যে থাকা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।

এছাড়া, মহাজোটের ১৪ দল, যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আসন বণ্টন শেষ হওয়ায় এবং সময়ও অল্প থাকায় জাতীয় পার্টি কতোটি আসন পেলেন তা জানার জন্য বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম; তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ অনেকে।