রাঙ্গাবালীতে পানের বরজে হাঁটুপানি, চাষিদের মাথায় হাত

রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী ঃ-

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে পানের বরজ তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার বেশিরভাগ পানবরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে চরমোন্তাজের হিন্দু গ্রামে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে নিম্নাঞ্চলের অনেক পানবরজ প্লাবিত হয়েছে ।

করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতেই দাম না পাওয়ায় লোকসানে রয়েছেন চরমোন্তাজের পানচাষীরা। এরই মধ্যে ”মরার উপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে অতি বৃষ্টি ও বন্যা। চরমোন্তাজ ইউনিয়নে প্রায় অর্ধ শতাধিক’ বরজে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে অন্তত দশ লক্ষাধিক টাকার পান। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম পানবরজ বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

রাঙ্গাবালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানায়, চলতি বছর উপজেলায় একহাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে পান উৎপাদন হয় ২ হাজার ২২০ টন। পান উৎপাদনের সঙ্গে রাঙ্গাবালীর ১৫০০ জন কৃষক জড়িত আছেন। বছরে রাঙ্গাবালীতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার পানের ব্যবসা হয়। তবে এ বছরের অতি বৃষ্টি ও বন্যায় চরমোন্তাজে প্রায় ২০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, এক হেক্টর জমিতে পান উৎপাদন হয় ১৬ টন। গড়ে ৪০ টাকা বিড়াপ্রতি পানের দাম ধরলে এক টন পানের দাম দাঁড়ায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে এক হেক্টর জমিতে বন্যায় ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকার পান নষ্ট হয়েছে। ২০ হেক্টর জমিতে ক্ষতির পরিমাণ ৫ কটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের হিন্দু গ্রামের বেড়িবাঁধে পানি নিস্কাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় আশে-পাশের ক-একটি গ্রামে পানি বদ্ধ হয়ে বাড়িঘর, ফসলাদি ও পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর টানাবর্ষণে জলাবদ্ধ হয়ে মানুষের জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পরে প্রতিনিয়ত ।

হিন্দু গ্রামের পানচাষি শিখা রানী জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তার বরজটি বৃষ্টির ক-এক ঘন্টার মধ্যেই তলিয়ে যায়। এতে তিনি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, এছারা আরও অর্ধশতাধিক পানের বরজ তলিয়ে গেছে, অতি শীঘ্রই যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হয় তাহলে পানচাষীরা বড় ধরনের হুমকির সম্মুখীন হবে ।

পাশের গ্রামের সুরেশ মন্ডল জানান, ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে গত দুই বছর আগে পানের বরজটি তৈরি করেছিলাম। গত ৪/৫ দিন আগে পানের বরজে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আর বের হয়নি। পানি থাকার কারণে গাছের গোড়া পচে পান বরজ পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমার কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার পান নষ্ট হয়েছে। আর রক্ষণাবেক্ষণ ধরলে দেড় লাখ টাকার মতো লোকসান হবে।

তিনি আরও জানান, পান বরজে একবার পান লাগালে ৪০/৫০ বছর ধরে বেঁচে থাকে। বারবার নতুনভাবে লাগানোর প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু পানবরজে পানি জমে থাকলেই পান বরজ শেষ। আমার এই পান বরজ করা মাত্র দুই বছর হয়েছে। এখন আবার নতুনভাবে করতে হবে। একটা পানবরজ তৈরি করতে গেলে শুরুতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।

কৃষকরা বলেন ”আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে পানের বরজ। সেই পানবরজটাই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেলো। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের কারণে পানের দাম ছিলনা। সেখানে এই ভারিবর্ষণ ও পুরো আয়ের পথটাই বন্ধ বন্ধ করে দিল”,

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পান বরজ তলিয়ে যাওয়ায় পানিতে নেমেই অধিক পরিশ্রমে পান সংগ্রহ করে বাধ্য হয়েই বাজারজাত করতে হচ্ছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজন এনে পান সংগ্রহের কাজে লাগিয়েছেন। পানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পান।

স্থানীয় পান চাষি সঞ্জয় বলেন, বাজারে গিয়ে পান বিক্রি করে শ্রমিকের খরচই উঠছে না।

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি কাল বাটের ব্যবস্থা করবো এবং তিনি কৃষকদেরকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর একটি দরখাস্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন ।