ভুল করেছি তোমায় ভালোবেসে” মোঃ ইব্রাহীম সোহেল “”

ভুল করেছি
তোমায় ভালোবেসে”
“”মোঃ ইব্রাহীম সোহেল “”

সুমি,আজ থেকে পাচঁ বছর আগে বাসা থেকে পালিয়েছিলো
বাসায় যখন তার প্রেমিকের কথা জানাজানি হয় তখন সুমি তার সিন্ধান্তে অটুট থেকেই এ কাজটি করেছিলো।সেদিন এ কাজটা না করলে হয়তো আজ সে এ পজিশনে এসে দাড়াতে পারতোনা।
বাসা থেকে পালিয়েছে ঠিকই কিন্তু সোহেলের সাথে যোগাযোগ করার মতো কোনো মাধ্যম তার হাতে ছিলনা।
তাই ফ্যাক্সিলোডের দোকান থেকে সোহেলকে কল দিয়েছিলো।কিন্তু কোনো কল সোহেলের ফোনে যায়নি কারণ ফোন বন্ধ ছিলো।এভাবে সন্ধ্যা গড়িয়ে এলো।আবার সুমি ফোন দিলো। হ্যাঁ এবার ফোনটাতে কল গিয়েছে ঠিকই।কিন্তু সুমি এসব কথা শুনার জন্য প্রস্তুত ছিলো না। সোহেল, কথাগুলো ছিলো;
-হ্যালো, সোহেল
-হ্যাঁ, বলো ,সুমি
-সোহেল ,আমার পরিবার আমাদের সব কিছু জেনে গেছে।তাই আমার ফোন নিয়ে গেছে।আমাকে অনেক বকেছে, মারধর করেছে। তাই আমি পালিয়ে এসেছি।প্লিজ সোহেল তুমি আমাকে নিয়ে যাও আমি বাসস্টানে এ দাড়িয়ে আছি। হ্যালো সোহেল শুনছো…. হ্যালো!
– সুমি, আমি দুঃখিত
-মানে।
-দেখো সুমি আমার পরিবার আছে।আমার বড় ভাইয়া এখনো বিয়ে করেনি ,আমার মা বাবা ,আমাদের মেনে নিবেনা।আর আমি এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত না।তুমি বাসায় ফিরে যাও!
-সোহেল তুমি কী পাগল হয়ে গেছো। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
-ফোনটা কেটে দিলো সোহেল।
সুমি, খুবই ভেঙ্গে পড়েছিলো কি করবে বুজতে পারছেনা এদিকে সুমির ,পরিবার মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পাগল প্রায়।
সুমি আজকে সুইসাইড করবে বলে ঠিক করেছে।কিন্তু সুইসাইড করতে পারেনি।পুলিশ তাকে খুঁজতে খুঁজতে খেয়া ঘাট ব্রিজের উপর পায়।পরে তার পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করে।পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক তা কিন্তু না পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের ওর পরিবারের থেকেও ওর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে মাথা ব্যথা বেশি ছিলো।সুমি এসব নিতে পারছেনা।এ ঘটনার পর ওর বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা আর নেই।বারবার সুইসাইড করার চেষ্টা করেও। এক প্রকার বেঁচে যেতো।এভাবে দুই বছর কেটে যায়।সুমি ,নিজেকে বুজতে শিখেছে।সুমির পরিবার আবার ওকে বিশ্বাস করে ফোন কিনে দেয়।দিনগুলো ভালোই চলছিলো।হঠাৎ একদিন সোহেল ওকে ফেজবুকে নক করে।সুমি, রাগে,ক্ষোভে সোহেল কে অনেক কথা শুনায়।তারপর আর ওর কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবেনি।কারণ যে ছেলে তার কঠিন পরিস্থিতিতে তাকে ছেড়ে চলে যায়। সে কেমন প্রেমিক?
সুমি সব কিছু ভুলে গিয়ে নিজের পায়ে দাড়ায়। উচ্চ শিক্ষিত হয়েছে সে।সে তার এক বন্ধুর সাথে বিয়ে করে নেয়।তাদের পরিবারই তাদের বিয়েটা দেয়।
হঠাৎ একদিন সোহেলের সাথে তার দেখা হয়ে যায়,সুমি না চিনার ভান করে।তারপর সোহেল তার কাছে ক্ষমা চায়।সোহেলের কথাগুলো ছিলো।
-সুমি,তুমি আমাকে ক্ষমা করো প্লিজ।জানো সুমি তুমি যখন পালিয়ে এসেছিলে। আমি তখন ভয় পেয়েছিলাম।তাই তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি।তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর। আমি সিলা, নামের একটা মেয়েকে খুব ভালোবেসে ফেলি।কিন্তু সিলা, ছিলো লোভী আর প্রতারক।ও আমার সাথে ভালোবাসার নামে নাটক করেছিলো ।আমি ওকে বলেছিলাম বিয়ে করবো।কিন্তু ও আমাকে ঠকিয়েছে।ওকে ভালোবেসে আমি আমার সব হারিয়েছি।
-সোহেল আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।কারণ তুমি সঠিক সময়ে আমাকে আমার ভুলটা বুজিয়ে দিয়েছো।তুমি সেদিন এমন টা না করলে।আমি বুজতেই পারতাম না যে আমি কতবড় প্রতারককে ভালোবেসেছি।কিন্তু দেখো সোহেল,ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, তুমি ভালো থাকতে চেয়েছিলে আমাকে ছেড়ে।অথচ সেই তুমিই আজ ভালো নেই।আর আমাকে উপযুক্ত একটা শিক্ষা দিয়ে বুজিয়ে দিয়েছো, কাউকে বেশি ভালোবাসতে নেই।তাহলে নিজেকেই কষ্ট পেতে হয়। যে কষ্ট টা আমি পেয়েছি, সেটা এখন তুমি ভোগ করছো সোহেল।এটা তোমার পাপ্য ছিলো।ভালো থাকবে তুমি।আর হ্যা আমি ভালো আছি অনেক। আর যে আমার সঙ্গী সে আর যাই হোক তোমার মতো প্রতারক না।