ভোলার চরসামাইয়া পিতা-মাতা থেকে প্রতারনা করে দু’পুএের জমি কবলা নেয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ::ভোলার চরসামাইয়া ইউনিয়নে ৭নং ওয়ার্ডের অসুস্থ পিতা-মাতাকে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে প্রতারনা করে দলিল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। গত ০৯-৭-২০ইং তারিখে ভোলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে ভুল বুঝিয়ে বাড়ীর জমিসহ মোট ২.২৫ একর জমির দলিল নেয় প্রতারক মোঃ নুরনবী ও মোঃ সোহাগ। জমির দলিল নেওয়ার পর পিতা-মাতা ও অন্য ভাই-বোনদেরকে বাড়ি থেকে চলে যেতে হুমকি-ধামকি দেয় তারা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী মোঃ হোসেন মেম্বার এক লিখিত অভিযোগে এসব কথা জানান। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
লিখিত অভিযোগে মোঃ হোসেন জানান, তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থাতায় ভুগছেন। তার স্ত্রী দীর্ঘ ৪ বছর যাবত প্যারালাইসিস রোগী। নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য মোঃ হোসেন মেম্বার তার ভোগদখলীয় ২০ শতাংশ (নাল) জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানতে পেরে মোঃ হোসেনের ছেলে ভোলার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্রাইভার মোঃ নুরনবী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্স এম এল এস এস (পিয়ন) অফিস সহায়ক মোঃ সোহাগ পিতাকে জমি ক্রয় করার প্রস্তাব দেয়। সে অনুযায়ী ড্রাইভার নুরনবী ও অফিস সহায়ক সোহাগের সাথে ২০ শতাংশ জমির চার লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারন করা হয়। ওই জমির দলিল নেওয়ার জন্য নুরনবী ও সোহাগ অসুস্থ্য পিতা মোঃ হোসেন ও প্যারালাইসিস রোগী মাকে ভোলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নেয়। সেখানে তারা কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে কু-পরামর্শ করে পিতা-মাতাকে দলিল লেখককের অফিসে বসিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পর সোহাগ ও নুরনবী এসে মোঃ হোসেন ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে টিপ/স্বাক্ষর নিয়ে ২০ শতাংশ জমির পরিবর্তে বসত বাড়ী, ঘর, বাগান, নাল ও পুকুরসহ (মৌজা- ছোট চরসামাইয়া, বর্তমান জে.এল নং-৮৫, বিএস ১৭০নং খতিয়ানে ১.১৫ একর এবং মৌজা- সেকমা, বর্তমান জে.এল নং-৯০, বিএস ১৭৭নং খতিয়ানে ১.১০ একর) সর্বমোট ২.২৫ একর জমি প্রতারনা করে দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এসময় ২০ শতাংশ জমির নির্ধারিত মূল্যেও ৪ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোঃ হোসেন ও তার স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়ীতে এসে মোঃ হোসেন জমি বিক্রির বাকী টাকা চাইলে ছেলে নুরনবী ও সোহাগ দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। কিছুদিন পর সোহাগ ও নুরনবীর আচরণ সন্দেহজনক হলে মোঃ হোসেন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার দুই ছেলে ২০ শতাংশ জমির পরিবর্তে বসত বাড়ী, ঘর, বাগান, নাল ও পুকুরসহ সর্বমোট ২.২৫ একর জমি প্রতারনা করে দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেয়। তাদের বৃদ্ধ বয়সে বাড়ীতে থাকার একটু জমিও রাখে নাই তারা। প্রতারনার বিষয়টি জানাজানি হলে মোঃ সোহাগ ও নুরনবী পিতা মোঃ হোসেনকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়। এছাড়া মোঃ হোসেনের বড় ছেলে মোঃ ইয়াছিনকেও বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য সোহাগ ও নুরনবী হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সরকারী চাকুরী করা দুই ছেলে সোহাগ ও নুরনবীর এই প্রতারনা মেনে নিতে পারেনি অসুস্থ পিতা মোঃ হোসেন। তার অন্য ছেলে ও ৫ মেয়েকে বঞ্চিত করে এই জমি প্রতারক দুই ছেলে যাতে ভোগ করতে না পারে সে জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, আমার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে নুরনবী ও সোহাগ প্রতারনা করে ২০ শতাংশ জমির পরিবতর্তে ২.২৫ একর জমি দলিল রেজিষ্ট্রি করে নেয়। আমার অন্যান্য সন্তানদেরকে বঞ্চিত করে যাতে সোহাগ ও নুরনবী জমি ভোগদখল করতে না পারে সে জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোঃ নুরনবী বলেন, আমরা দুই ভাই ২৬ বছর যাবত বাড়িতে যাই না। এই সুযোগে আমাদের বড় ভাই বাবার সকল সম্পত্তি লুটপাট করে খায়। ভাইর অত্যাচারে আমার বাবা আমাদের কাছে জমি বিক্রি করতে আসে। আমরা প্রথমে রাজি না হলে তিনি (বাবা) অন্যের কাছে জমি বিক্রি করে দিবে বলে। তাই আমরা বাবার সাথে কথা বলে জমি ক্রয়ের রাজি হই এবং বাবা নিজেই আমাদেরকে এই জমির দলিল দেন। এখন তিনি বড় ভাইয়ের ইন্ধনে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তবে কত টাকার বিনিময় জমি ক্রয় করেছেন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি নুরনবী। অভিযুক্ত অপর ভাই মোঃ সোহাগকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।