ডিএসসিসি’র ১নং ওয়ার্ড, উন্নয়ন কর্মে নিষ্ক্রীয় কাউন্সিলর মাহবুব,সক্রিয় অর্থ আয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুই অংশের নির্বাচনে বিজয়ী অন্ততঃ দুই ডজন কাউন্সিলর উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে চরম নিষ্ক্রীয়তার পরিচয় দিয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর বিগত ৭ মাসে তারা এলাকার সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোও চিহ্নিত করতে পারেননি তারা। খানা-খন্দে ভরা রাস্তাঘাট আর সুয়ারেজ ব্যবস্থা সেই আগের মতই। পরিকল্পনাও নেই কোন অধুনিকতার। তবে সমস্যা চিহ্নিত করে উন্নয়ন কর্মে তারা চরম নিষ্ক্রীয় থাকলেও ব্যক্তিগত তহবিল বৃদ্ধির তৎপরতায় ছিলেন সক্রিয়। এদের মধ্যে ডিএসসিসি’র ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুব আলম অন্যতম। এসব নিয়ে এই অল্প সময়েই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

১নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, এই ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাহবুব আলমকে তার সমর্থকরা ‘জনতার কাউন্সিলর’ বলে আখ্যায়িত করলেও মূলতঃ তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিগত ৭ মাস ছিলেন নিষ্ক্রীয়। তার নিষ্ক্রয়তা এতটাই চরম পর্যায়ে ছিলো যে করোনা মহামারির সময়েও তাকে অসহায় মানুষরা পাশে পাননি। দেখেননি তার ছায়াও।

অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর মাহবুব আলম এলাকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত না হয়ে বরং নানা ভাবে এলাকার নিরিহ মানুষদেরকে বিপদগামী করে, হুমকী-ধামকী ও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের আয়ের পথ কওে নিয়েছেন। অবৈধ আয়ের উৎস্য নিয়ে বেশি সময় অীতবাহিত করছেন। এই মহামারী করোনা ভাইরাসের মধ্যেও তিনি সাধারণ মানুষ ও কতিপয় ব্যবসায়ীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় দাবী করছেন। তারই একটি অংশ হচ্ছে খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের পূর্ব পাশে ১নং ওয়ার্ডের ঝ-সিরিয়ালের প্লট মালিকগণ। ঝ-সিরিয়ালের প্লট মালিকদের বাড়ীর সামনের রাস্তাটি ১ফুট প্রশস্ত করে দিবে বলে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সকল প্লট মালিকদের কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে কাউন্সিলর। প্লট মালিকেরা এতে আপত্তি জানালে মাহাবুব আলম বলেন, টাকা আমি খাবো না, অঞ্চল-২ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ারকে দিতে হবে। কিন্ত এই বিষয়ে কথা বললে অঞ্চল-২ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার সরাসরি অস্বীকার করেন ।
তিনি প্লট নং ঝ-১৩ ও ১৪ এর মালিক নজরুলকে আপাতত ১০ লক্ষ টাকা কওে তুলতে দায়িত্ব দিয়েছেন। এই টাকা দ্রুত তুলে তার অফিসে জমা দিয়ে আসতে বলেছেন। সামপ্রতিক সময়ের কাউন্সিলরের এমন সিদ্বান্তের বিষয়ে প্লট মালিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় প্লট মালিক এডভোকেট হাবিবুর রহমান, খালেক, ফরিদ মিয়াাসহ ঝ- ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ এর সকল প্লট মালিককে হুমকি দেয়া হয়ছে। ২ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সিটি কর্পোরেশন থেকে বুলডোজার দিয়ে সকলের বাড়ির অংশ-বিশেষ ভেঙে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন কাউন্সিলর। সিটি কর্পোরেশনের কথা বলে ক্উান্সিলরের লোকজন রাস্তার দু-পাশের ঝ- সিরিয়ালের প্রতিটি প্লটের সামনের দেয়াালে লাল রংয়ের সীমানার দাগ দিয়ে আসে। লাল রংয়ের দাগ দেখে প্লট মালিকগণ বাড়ী ভাঙ্গার আতংকে রয়েছেন। তাই তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২ এর এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন এর সাথে কথা বললে, তিনি এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি আরও বলেন কিছুদিন আগেই ওই এলাকায় রাস্তা নতুন করে করা হয়েছে এখন রাস্তা প্রশস্ত করার কোন প্রকল্প সিটি করপোরেশন গ্রহণ করেন নাই এবং বাড়ির মালিকদের প্রতিটি বাড়ির সামনে লাল রং দিয়ে দাগ দেয়া হয়েছে এই ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার হারুন কিছুই জানেন না বলেও জানান।এছাড়া খিলগাঁও কবরস্হানে মাটি প্রতি বস্তা ৫০ বস্তা দরে বিক্রি করাচ্ছেন কাউন্সিলর মাহবুব আলম এমন অভিযোগ করছেন অত্র এলাকাবাসী।
এর আগেও কাউন্সিলর মাহবুব এর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছে এবং প্রশাসনকেও তিনি তোয়াক্কা করেনি।