ভোলার ধনিয়ায় ইউপি সদস্য, দফাদার ও সমাজকর্মীর নেতৃত্বে বাল্যবিবাহের অভিযোগ

স্টাফ রির্পোটার \ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দির দুই পরিবারের সম্মতিতে ইউপি সদস্য, দফাদার ও সমাজকর্মীর নেতৃত্বে বাল্যবিবাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, ধনিয়া ১ নং ওয়র্ডের বালিয়াকান্দির হজু হাজী বাড়ীর জাহাঙ্গীরের পুত্র মাইনুদ্দিনকে গত ২২ আগস্ট মেয়ে ও ছেলে পালিয়ে যাওয়ার গোপন সংবাদ পেয়ে আটক করে ভোলা থানা পুলিশ। সেখান থেকে জিম্মায় আনে ইউপি সদস্য জামাল হাওলাদার, দফাদার সিরাজুল ইসলাম, মেয়ের চাচতো ভাই বশির মাঝি ও সফি বাঘা।
মানুদ্দিনের বড় ভাই সবুজ বলেন, ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে জানতে পারি ধনিয়া কলগোরার বশির মাঝির চাচা জনৈক আবু কালাম ওরফে আবুর মেয়ে তাহেরা খাতুন ওরফে তাহেরা (১২) পূর্ব বাপ্তা দাখিল মাদ্রসার ৭ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী, যার রোল নং – ২৩ পড়ুয়া এক মেয়ে সহ আমার ভাই মাইনুদ্দিনকে আটক করেছে ভোলা থানা পুলিশ । এর একদিন পর ওই গ্রæপটি আমাকে ডেকে নিয়ে জোর করে বিয়ের এজিন দিয়েছে এবং ২ লক্ষ টাকা কাবিন নগদ ৫০ হাজার টাকা বাকী ১ লক্ষ ৫০ হাজার এটাই আমি জানি। এখন আমার ভাই মেয়ের বাড়ীতে রয়েছে।
এব্যাপারে ধনিয়া ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান গত ২২ আগষ্ট রাতে ছেলে ও মেয়ে উভয়কে থানা থেকে জিম্মায় নিয়ে আসি । তবে তাদের উভয়ের বয়স হয়নি তাই বিবাহ পড়ানো হয়নি এবং ছেলেকে সফি বাগার জিম্মায় দিয়েছি আর মেয়েকে তার বড় ভাই বারেকের জিম্মায় দেই । দফাদার সিরাজুল ইসলাম জানান, ছেলে ও মেয়ে উভয়কে ভোলা থানা থেকে আমাদের জিম্মাদারিতে দেওয়া হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইউপি সদস্য জামাল হাওলাদার, সফি বাঘা ও দফাদার সিরাজুল ইসলাম এবং মেয়ের চাচতো ভাই বশির মাঝি বাল্যবিবাহ দিয়েছেন। বাল্যবিবাহ না হয় এটাই আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু অর্থের গোপন লেনদেনের মাধ্যমে এ বাল্য বিবাহটি হয়েছে। মাইনুদ্দিনের চাচা আ: মালেক জানান, তার ভাতিজা মাইনুদ্দিনকে মেয়ের বাাড়িতে জোর করে নিয়ে বাল্য বিবাহ দিয়েছে। এদিকে মেয়ের চাচতো ভাই বশির মাঝির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ছেলের ও মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি তাই বিবাহ দিতে পারি নাই। এদিকে সফি বাঘা জানান তাহেরা খাতুন ওরফে তাহেরা বেগম আরো দু’তিনবার বিষপান করেছ। এখন আমারা বিপদে রয়েছে। এব্যাপারে মাইনুদ্দিনের চাচা আ: মালেক জানান, মাইনুদ্দিনকে মেয়ের চাচাতো বশির মাঝি দলবল নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাাড়িতে নিয়ে জোর করে আটক করে গোপনে বাল্য বিবাহ পড়ানো হয়েছে বলে সে শুনেছেন। অথচ ছেলে ও মেয়ের বয়স হয়নি। কি ভাবে সরকারী আইন অমান্য করে বাল্য বিবাহ হলো ,বিষয়টি সরকারের প্রশাসনের ব্যবস্হা নেয়ার জোর দাবী করেন তিনি। সে আরো বলেন এভাবে তাহেরা খাতুন ওরফে তাহেরাদের মত বহু শিশু মেয়ে ও ছেলে বিবাহ হয় আর প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাল্য বিবাহ বৃদ্ধি পাবে। তাই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা একান্ত অপরিহার্য। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন,ইউপি সদস্য জমাল হাওলাদার,দফদার সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সফিবাঘা এবং বশির মাঝি কোন ক্ষমতা বলে বাল্যবিবাহ পড়ান। এদিকে স্থানীয় জনৈক ব্যাক্তি গত ২৬ আগষ্ট এ বাল্য বিবাহের বিচার ও প্রতিকার চেয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রেসক্লাক সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবার আবেদন করেছেন। তিনি তার আবেদনে বাল্য বিবাহ বন্ধ ও যারা ও কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
এদিকে মেয়ের বাবা মোঃকালাম জানান আমার মেয়ে তাহেরা খাতুন ওরেপে তাহেরা(১২) ষষ্ঠশ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণীতে উঠেছে সে মেয়েকে বড় ছেলে বারেক ও মেম্বার জামালা হাওলাদর ও দফাদার শিরাজ ও আমার স্ত্রী মিলে বিয়ে দায়েছে।
আমার গরু বিক্রি করা একলক্ষ ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে একলক্ষ টাকা তছনছ করে ফেলছে আমার কথা কেউ শুনচে না।
এদিকে পূর্ব বাপ্তা দাখিল মাদ্রসার কর্মচারী বসার মিয়া জানান তাহেরা খাতুনের পিতা আবুল কালাম তাকে জানান তার মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাএী রোলনং২৩ তার বিবাহ হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন কবির এর সাথে যোগাযোগ করলে হলে তিনি বলেন মেয়ের বাবা কে আমি চিনি না
তিনি ভুল করে আমার নাম বলেছেন উক্ত ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই।
ভোলা থানার এস আই লুৎফর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে গত ২২ আগস্ট সকাল ৮ঘটিকার সময় তাদেরকে আটক করা হয়েছে এবং ওই দিন সন্ধায় এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হাওলাদার,সফি বাঘা,বশির মাঝী এবং দফাদার সিরাজুল ইসলাম, ছেলে ও মেয়ে উভয়কে তাদের জিম্মাদারিতে দেওয়া হয়েছে