শিক্ষা ব্যবস্থায় অচলাবস্থা কেনো এমন পরিস্থিতি ” আব্দুল কাদের জিলান

স্টাফ রিপোর্টার::

আল্লাহ সর্ব শক্তিমান, আসসালামু আলাইকুম।
প্রাণপ্রিয় দেশবাসী আপনাদের সকলের উদ্দেশ্যে শিক্ষা নিয়ে কিছু কথা বলবো।

আমরা সবাই জানি, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার পর এবার চলতি বছরের অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। এতে শিক্ষার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
তারপরও বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন ও মোবাইলে পাঠদান চালু থাকলেও খুব বেশি কার্যকর হয়নি, যেমনঃ- চাঁদপুরের মতলব সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তার বলেছে,  উপজেলা শহরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার, গ্রামে ইন্টারনেট সুবিধা নেই বললেই চলে, ফারহানার কাছে নেই স্মার্টফোনও।
ফারহানা আক্তার বলেন, ‘কলেজের ক্লাস মার্চ মাস থেকে বন্ধ, অনলাইনের ক্লাসগুলোও পাচ্ছি না, এভাবে চললে ভবিষ্যতে পরীক্ষার খাতায় কী লিখব? পাস করবো কী ভাবে? লেখাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
“স্মার্টফোন” ও শক্তিশালী ইন্টারনেট–সুবিধা না থাকায় ফারহানার মতো মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ তথ্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয়ের  তাঁরা বলছেন, উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫৫টি, এর মধ্যে উচ্চ বিদ্যালয় ৩১টি, মাদ্রাসা ১৮ টি এবং কলেজ রয়েছে ৬টি, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষকদের অনলাইনভিত্তিক ক্লাসে যুক্ত থাকছেন মাত্র সাড়ে ৮ হাজারের মতো শিক্ষার্থী অর্থাৎ বাকি ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থীই এ সুবিধা পাচ্ছেন না। গত জুনের শেষ দিকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এ প্রক্রিয়ায় যুক্তই হতে পারেনি। কারণ করোনার এই সংকটের সময়ে অনেক পরিবারের খরচ সামলাতেই হিমশিম। এর মধ্যে সন্তানদের পড়াশোনার জন্য দামি মুঠোফোন বা ইন্টারনেট কেনার টাকা তাঁদের জোগাড় করা অসম্ভব এক ব্যাপার।
সরকারে উচিত ছিল, শিক্ষার্থীদের ক্লাসের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করা, সরকারের এমন বিবেচনাহীন কর্মকাণ্ড খুবই দুঃখজনক। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে এই ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি এবং হাতে এখনো ৪ মাস সময় আছে এই বৎসরের, পরীক্ষা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি,  শতভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত হবে পরীক্ষা নেওয়াটা। 

এসব শিক্ষার্থীর সহায়তায় আমরা শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি মনে করি, সবারই এগিয়ে আসা উচিত। বিস্ময়কর ভাবে আমরা শ্রমজীবী পার্টি লক্ষ্য করছি, বর্তমানে কোনো শিক্ষানীতি ছাড়াই চলছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, কিছু শিক্ষার্থীরা (যারা সচ্ছল পরিবারের) ক্লাস করছে, পরীক্ষা দিচ্ছে, এমনকি ফলও পাচ্ছে। আর অসচ্ছল পরিবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছেন, আমাদের সংবিধান অনুযায়ী, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার যা সবার জন্য সমান ভাবে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কিন্তু আমরা দেখছি সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কিন্তু অনেক দেশ আছে যারা সফল ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যেমনঃ- ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরও কোনো সমস্যা হয়নি।
এই সব দেশ শুরু থেকেই করোনা নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সে কারণে সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা ঠিক মতো চলছে।

আমরা শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি, বর্তমান সরকারের অবিবেচক কর্মকাণ্ড ও পদক্ষেপের জন্য বর্তমান শিক্ষায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় কঠোর নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছে।
এখন প্রশাসনিক আদেশ-নির্দেশ, অস্থায়ী ভিত্তিতে শিক্ষার নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, এভাবে কারও খেয়াল খুশি মতো শিক্ষা ব্যবস্থা চলতে পারে না।

এজন্য যুগোপযোগী শিক্ষানীতির প্রয়োজন ছিল, যেখানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা থাকবে। প্রত্যেক শিক্ষার সিঁড়ি বেয়ে সন্তানকে আমরা কোথায় নিতে চাই—সেই রূপরেখা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষানীতি জরুরি।
আমরা শ্রমজীবী পার্টি মনে করি, পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারকে শিক্ষা খাতে নজর দিতে হবে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের বিনা মূল্যে ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইন ক্লাসের জন্য সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সব ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের জন্য বিনা মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট–সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশের সব জেলায় ফোর–জি ইন্টারনেট অথবা ব্রডব্যান্ড–সুবিধা দিতে হবে।
শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসের কোর্সের আওতায় আনতে হবে, যেন তাঁরা নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে পারেন। শিক্ষার্থীরা যেন অতিরিক্ত অনলাইন আসক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের প্রাণের প্রিয় সন্তানদের জেনে–শুনেই আমরা এই বিষ হাতে তুলে দিলেও এর মাত্রা যেন অধিক না হয়, সেই চেষ্টাই আমাদের করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের যতটুকু সম্ভব ডিভাইসের স্ক্রিন থেকে দূরে বসাতে হবে। আমরা জানি আসলে পৃথিবীর এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেক কিছুই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হচ্ছে, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এর ব্যতিক্রম নয়। তাদের এই সময়ে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দিতে হবে। সবাইকে মনে একটা কথাই গেঁথে নিতে হবে, আমরা বন্দী নই, জীবনকে নতুন করে গড়ার এটাই সুযোগ, সময় টাকে কাজে লাগাতে পারলেই আমরা নতুন করে গড়ে নিতে পারবো নিজের জীবন এবং  আমাদের পাল্টে যাওয়া পৃথিবী টাকে।
আমাদের সরকারের কাছে প্রশ্নঃ-

         “শিক্ষানীতি কেন হয়নি এবং এই
                   অচলাবস্থা হওয়ার জন্য দায়ী কে??

আমি মনে করি, “যেহেতু শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড” তাহলে সেই শিক্ষাই অর্জন করতে হবে, যাতে এদেশের সকল  জনগণের অধিকার এবং কোমলমতি শিশুদের জন্য শিক্ষার মুল্য সঠিক ভাবে পালন করা হয়।
বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি”র চিন্তাধারা পরবর্তী সময়ে শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকবে ইনশাল্লাহ, শিক্ষা অর্জন করে বেকার জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে না, ইতিহাস ঐতিহ্য সৃষ্টি করা হবে।

আমি লায়ন মোঃ আব্দুল কাদের জিলানী সভাপতি,  বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি।
বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচতে হলে নতুন তারুণ্যের আদর্শের ভিত্তির রাজনৈতিক দলে যোগ দিন।
আপনাদের সকলকে বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি- বিএসপি”তে যোগ দান করার আহবান করছি, সেই সাথে অফুরন্ত ভালবাসা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রহিলো আপনাদের সকলের প্রতি।
আমাদের সবাইকে আল্লাহ পাক হেফাজত করবেন ইনশাল্লাহ, ভালো থাকবেন দোয়া করি,
আল্লাহ সর্ব শক্তিমান।