দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নিচ্ছে না সন্দ্বীপ থানার ওসি।

তানজিলা আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৫ ( মে) শুক্রবার রমজান মাসে ইফতারের আগ মুহূর্তে মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকানের বাড়িতে সন্দ্বীপ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং তার সহযোগীরা মিলে নারী সহ সাত জনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।বউকে ইভটিজিং করার প্রতিবাদ করায় স্বামী সহ বাড়ীর অন্য ঘরের লোকদের উপর নির্মম নির্যাতন করে সিদ্দিক এবং তার সহযোগীরা।হামলার স্বীকার মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকান জানায়,রাকীব নামে এক ছাত্র লীগ কর্মী গত তিন মাস যাবত রাকিবের মোবাইল থেকে আমার বউয়ের মোবাইলে কল দিয়ে বিভিন্ন রকম আজে বাজে কথা বলতে থাকে। রাকিব কে কল না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে সে উল্টো সে উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের ভাগিনা তাই কল দিলে না ধরলে সমস্যা করবে এবং বাড়ী ছাড়া করবে এজাতীয় হুমকি বার্তা দিয়ে থাকে। আমি কাজের জন্য চট্টগ্রাম থাকায় বিষয়টি আমার বউ আমাকে মোবাইলে জানায় পরবর্তীতে আমি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ জরুরি চলে আসি বিস্তারিত ঘটনা রাকিবের বিষয়ে সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ করে একটা সঠিক সমাধানের জন্য। শুক্রবার বিকেলে আমি বাড়ীতে আসছি সেই খবর রাকিব জানতে পেরে সরাসরি আমার বাড়িতে এসে আমার ঘরের সামনে ঘুরাঘুরি করে আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তখন আমি রাকিব কে আমার বাড়িতে কেন আসছে কি সমস্যা জানতে চাইলে রাকিব আমাকে বলে আপনার সাথে কথা বলবো আপনি আলিমিয়া বাজার আসুন যদি আপনার এবং আপনার পরিবারের ভালো চান।এসব কথা আমার বাড়ীর অন্য সদস্যরা দেখে রাকিবকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেন। এতে রাকিব তার লোকজন নিয়ে আলিমিয়া বাজার আমাকে আক্রমণ করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। আমি বাজার করার জন্য আলিমিয়ার বাজার যায় বিকেলে ঠিক তখন সিদ্দিক এর ভাগিনা রাকিব তার ২০ জনের মতো লোক আমাকে এলোপাতাড়ি মারা শুরু করে। একপর্যায়ে বাজারের সাধারণ জনগণ আমাকে তাদের থেকে রক্ষা করে আহত অবস্থায় রিকসা যোগে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু রাকিব এতে শান্ত না হয়ে পূনরায় তার আপন মামা সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান সহ আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ জন লোক নিয়ে আমার বাড়িতে লাঠি সোঠা ও দা নিয়ে আমার পরিবারের উপর হামলা চালাতে থাকে। সিদ্দিক নিজে দা নিয়ে কোপ দিয়ে আমার পরিবারের মহিলা সদস্যকে আহত করে এবং রাতের মধ্যে সন্দ্বীপ ছেড়ে পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে আমাদের আহত অবস্থায় পেলে রেখে আমার বাড়ি ত্যাগ করে। বিষয়টি আমার বাড়ির আসে পাশের বাড়ির সকল লোকজন দেখে কিন্তু সিদ্দিকের ভয়ে কেউ আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে নি।পরবর্তীতে এলাকার লোকজন আমাদের উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি ভিবাগে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।আমার পরিবারের নারী সহ সাত জনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুত্ব আহত করেছে সিদ্দিকের লোকজন। পরবর্তীতে ডাক্তারি সার্টিফিকেট সহ এলাকার লোকজন নিয়ে থানায় মামলা করার জন্য গেলে থানার ওসি সাহেব উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হামলাকারী সিদ্দিকুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা না নিয়ে তদন্ত করে মামলা নিবে বলে সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষ নিয়ে ওসি আজ দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ও কোন মামলা নেয় নি। আমার উপর হামলার বিষয়টি পুরো সন্দ্বীপের জনগণ এবং মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান নাদিম সাহেব সহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ সিনিয়র নেতারা সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কি কারণে ওসি সাহেব সিদ্দিকুর রহমান এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা নিচ্ছে না তাই আমি দেশের গন মাধ্যম এবং সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। বর্তামানে সিদ্দিকুর রহমান এবং তার সহযোগীরা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আমার উপর পূনরায় হামলা হওয়ার আশংকা রয়েছে। আমি ভয় এবং আতংকের মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছি। আমি একজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার পরে ও এমন ভয়ংকর জঘন্য হামলার সঠিক বিচার কেন হচ্ছে না ওসি কার নির্দেশে কিসের সমঝোতার কারণে মামলা নিচ্ছে না সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।