বাউফলে তাপস হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংবাদিক সম্মেলন

পটুয়াখালীর বাউফলে তোরণ নির্মাণের স্থান দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ নেতা তাপস চন্দ্র দাস হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামণা করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল সারে চার টায় দলীয় কার্যালয় জনতা ভবনে ওই সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাউফল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফারুক। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মোসারেফ হোসেন খাঁন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সামসুল আলম মিয়া, যুবলীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ, সাধারন সম্পাদক কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম. ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ খাঁন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এনায়েত খাঁন ছানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সূর্যমনি ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান রব, কালিশুরী ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নেছার উদ্দিন সিকদার জামান, কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোো. শাহিন হাওলাদারসহ অনান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফারুক, নিহত তাপস দাসের বড় ভাই পঙ্কজ দাস এবং কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম. ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মামলা হলেও আসামি মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল সহ অন্যান্য আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ নিস্ক্রীয় রয়েছে। নিহত তাপসের বড় ভাই পঙ্কজ দাস জানান, তার ভাইকে কুপিয়ে জখম করার সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে পিটিয়ে দুরে সরিয়ে রেখেছে। পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২৪ মে) দুপুরে বাউফল থানা সংলগ্ন ডাংকবাংলোর সামনে পূর্বে নির্মিত পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফারুকের করোনা সচেতনতামূলক তোরণের স্থলে বাউফল পৌর মেয়রের সমর্থকরা তোরণ নির্মাণ শুরু করলে
ইব্রাহিম ফারুক বাঁধা দেন। এরফলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং পুলিশের সামনেই চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। সংঘর্ষের সময় মেয়র সমর্থকদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় তাপস দাস। ওই দিনই সন্ধা সারে সাতটার দিকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তাপস। এঘটনায় তাপসের বড় ভাই পঙ্কজ দাস বাদি হয়ে সোমবার রাতে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ সোমবার ঘটনার সাথে জড়িত সোহাগ হোসেন (৩৫) ও সুব্রত (৩২) নামের দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।