দূষণমুক্ত সবুজ বাংলাদেশ গড়তে একজন বাপ্পি সরদারের লড়াই

মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ডে সৃষ্ট ক্ষতিকর পদার্থ ও তা নির্গমনের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশের উপর প্রভাব পড়লে তাকে দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। বায়ু দূষণ, জল দূষণ, শব্দ দূষণ এবং মৃত্তিকা দূষণ এরমধ্যে অন্যতম। তাছাড়া বায়ুদূষণের ফলে মানুষ নানা রকম সমস্যা বা রোগে ভুগছেন। দিনদিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে বন, অপরিকল্পিতভাবে কল কারখানা য় চেয়ে যাচ্ছে পৃথিবী, আর কল কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ দূষণ করছে জলরাশিকে। পরিবেশের আসব বিরূপ প্রতিক্রিয়া র কারণেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রাণী। মানুষের উপর পড়ছে তার প্রভাব। পৃথিবীতে নেমে আসছে একের পর এক ভয়ঙ্কর মহামারী। পরিবেশের এসব দূষণ ঠেকাতে ও দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার প্রত্যয় নিয়েই সবুজ আন্দোলন পরিবেশবাদী সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।

সবুজ আন্দোলন সংগঠনটির পথ চলা শুরু ২০১৮ সালের ১ লা সেপ্টেম্বর। সেই বছর সদ্য জার্মান ফেরত প্রবাসী শাহাবুদ্দিন মিয়া। যিনি দীর্ঘ ৪০ বছর জার্মানিতে বসবাস করছেন এবং কাজ করছেন পরিবেশ নিয়ে। আমরা যখন আলোচনা শুরু করলাম কথা হলো সারা পৃথিবীর প্রধান সমস্যা জলবায়ু সংকট নিয়ে। আমার সব থেকে ভালো লাগলো তিনি এতো বছর বিদেশে থেকেও দেশের সমস্যা নিয়ে বহির্বিশ্বে আলোচনা করছেন। শুরু হলো একসাথে পথ চলা। দেশের পরিবেশ উন্নয়নে র কথা ভেবে জন্ম হলো “সবুজ আন্দোলন” নামে বাংলাদেশে প্রথম পরিবেশ বাদী সামাজিক সংগঠনের। সংগঠনটি উদ্যোক্তাগণ দাবী করেন_ আমরাই প্রথম, কারন এটা শুরুমাত্র পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে জনসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে সংগঠনে রয়েছে ৭ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ আকারে রয়েছে সংগঠনকে গতিশীল করতে ৭১ সদস্যের কমিটি। তরুণ ও ছাত্র সমাজের মধ্যে জাগরণ তৈরী করতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিতে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ আন্দোলন ছাত্রফ্রন্ট।গত ১ বছর ৭ মাসে সংগঠনের কার্যক্রম সারাদেশে ৬০ জেলা ও ১৮০ টি উপজেলায় সম্প্রসারণ করতে সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৫ হাজার। বিদেশে প্রবাসীদের সংগঠিত করতে এবং দেশের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করতেও কাজ করছে সবুজ আন্দোলন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তরুণ সংগঠক, মোটিভেটর স্পিকার ও পরিবেশবিদ বাপ্পি সরদার। তিনি সারাদেশে ইতোমধ্যে সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সফর করছেন ৩৫ জেলার বিভিন্ন উপজেলা। তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের জনগণ একদিন জলবায়ু সমস্যা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ রাষ্ট্র হিসেবে শিল্পোন্নত দায়ী রাষ্ট্রের কাছে নিজেদের অর্থ আদায়ের মিছিলে রাস্তায় নেমে আসবে।ইতোমধ্যে সবুজ আন্দোলন সারাদেশে প্রায় ৮০ হাজার গাছ বিতরণ করেছে। তিনি একটি ড্রিম প্রজেক্ট’র মডেল দার করেছেন, নাম দিয়েছেন “গ্রীণ ক্যাম্পাস”।তিনি স্বপ্ন দেখেন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে সারা দেশে সবুজ অর্থনীতি ও দেশের মানুষের নৈতিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় পৃথিবীর সকল উন্নত দেশ কি ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কি ধরনের গবেষণা করছে সেটা যেমন দেখা এবং জানার বিষয়, তেমনি নিজেদের দেশের পরিবেশগত সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে তৈরি করা হয়েছে সবুজ আন্দোলন গবেষণা পরিষদ।পরিষদের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন দেশের অন্যতম কলামিস্ট, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশ গবেষক আলম শাইন। ইতোমধ্যে সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস নামে একটি বই প্রকাশনা করা হয়েছে। আরও ৩ টি বই প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। নদী দূষণ নিয়ে জনসচেতনতা তৈরি, পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করণ ও পরিবেশের বিপর্যয় রোধে নতুন নতুন পরিবেশবান্ধব নতুন পন্য উৎপাদনের ফর্মুলা তৈরি ও বাজারজাত করতেও কাজ করছে সবুজ আন্দোলন গবেষণা পরিষদ। আগামীতে দেশের তরুণ ও দক্ষ গবেষকের সমন্বয়ে আলাদা বিজ্ঞানাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের।
বর্তমান সময়ে পৃথিবী জুড়ে করোনা (কেভিট ১৯) ভাইরাস আতংকে বিপর্যস্ত। এই মহামারী ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে চলছে সাধারণ ছুটি। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকার সকল জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশের খেটে খাওয়া দিনমজুর সহ নিম্নআয়ের জনগণ আজ দিশেহারা।
এমন পরিস্থিতিতে দেশের সকল জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসা জরুরী। কিন্তু তাদের ভূমিকা আজ প্রশ্ন বিদ্ধ। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে পরিবেশ বাদী সামাজিক সংগঠন- সবুজ আন্দোলন। এই সংগঠনটি ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৫০ জেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে লিফলেট, সাবান, মাস্কস, হ্যান্ড গ্লাবস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও প্রায় ১ হাজার পরিবারকে খাবার বিতরণ করেছে। এছাড়াও করোনা ভাইরাস নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পল্টন মোড়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সংগঠনটি। তিনি বলেন, সবুজ আন্দোলন মূলত পরিবেশের বিপর্যয় ও জলবায়ু সংকট নিয়ে কাজ করে। কিন্তু দেশের এই দূর্যোগে আমরা জনগণের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়িয়েছি। আগামীতেও দেশের সকল সমস্যায় আমরা জনগণের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।
সংগঠনের পরিচালনা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দকে দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

উল্লেখ্য বর্তমানে সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশের জেলা-উপজেলায় অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে প্রতিনিয়ত ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে এমন উদ্যোগ চলমান থাকবে বলেও জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার।