তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পিছু হটলো ভারত, আসছে না সেনাবাহিনী

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছে ভারত। এমন সংবাদ প্রকাশের পরই শুরু দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া। দেশগুলোতে এমন প্রতিক্রিয়ার ফলে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটি। ফলে বাংলাদেশে ভারতের সেনাবাহিনীর কোনও টিম আসছে না।

এব্যাপারে ব্যাখ্যাও দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর র‌্যাপিড রেসপন্স টিম (আরআরটি) কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে না। তবে কেউ চাইলে পাঠানো যেতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীভাস্তভা বলেন, মালদ্বীপ ও কুয়েতের মতো দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকদের সমন্বয়ে গঠিত আরআরটি মোতায়েনের অনুরোধে আমরা দ্রুত সাড়া দিয়েছি। তাই অন্যান্য বন্ধুপ্রতীম দেশও যদি আরআরটি’র জন্য অনুরোধ করে তাহলে স্বল্প সময়ের নোটিশে যেতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতরের সূত্র বলে, আমরা টিমগুলোকে প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছি, যাতে অনুরোধ পাওয়ামাত্র পাঠানো যায়। তবে কিছু গণমাধ্যম এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও আফগানিস্তানে মেডিকেল টিমসহ সেনা বাহিনীর প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত।

এরপরই শুরু হয় তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান। বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয় সমালোচনা। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিহতের ঘোষণাও দেয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও আসে ঘোষণা। কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধের ভারতীয় সেনাবাহিনীর সেবা বাংলাদেশের প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

এছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান সরকারের পক্ষ থেকেও আসে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দেশে কোনও বিদেশি বাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। এরপরই নরেচড়ে বসে ভারত সরকার।