ছয় মাস পর ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ মুক্ত হলো সেই ১২ শকুন!

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ছয় মাস পর ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ মুক্ত হলো সেই বিরল প্রজাতির ১২টি শকুন। তবে ছাড়া পেয়ে পাখিগুলো খাবার সংকটে পড়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা শকুনগুলোকে। মুক্ত হয়ে দূরে যায় না এই পাখিগুলো। সেখানেই ঘুরা-ফেরা করছে।

ঠাকুরগাঁও বনবিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জার) হরিপদ দেবনাথ জানান, গেল শীত মৌসুমে নেপালসহ অন্যদেশ থেকে আসা ক্লান্ত ১১টি শকুনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের বছরের রয়েছে একটি শকুন। তাদের পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সুস্থ করে খাঁচায় রাখা এই পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

পরিচর্যা কেন্দ্রের কর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ‘হোম কোয়ারেন্টিন’ মুক্ত হলেও তাকে ছেড়ে যাচ্ছে না অভুক্ত পাখিগুলো।

তিনি বলেন, আমি একজন দিনমজুর কী করে তাদের খাওয়াই; এই বলে তিনি কেঁদে ফেলেন। পাখি প্রেমিক রমেশ চন্দ্র রায় বেলালের চোখের পানি দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. হেলাল বলেন, পাখিগুলো কয়েকদিন ধরে খাবারের জন্য ছটফট করছে। কিন্তু তাদের কে দেবে খাবার !

তিনি আরও বলেন, খাবারের জন্য ছুটে এসেছিল, ফের খাবারের সংকটেই পড়ল অজানা দেশের এই পাখিগুলো।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, প্রাণীর মরদেহ খেয়ে শকুন জীবনধারণ করে । কিন্তু বৈশ্বিক রীতির পরিবর্তনে এই প্রাণীগুলো খাদ্য সংকটে পড়েছে।

দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, গত বছর ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শকুনগুলো উদ্ধার করা হয়।

প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত বিলুপ্ত প্রায় এই পাখিগুলোকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান, সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শকুনকে সুস্থ করার জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা হয়েছে একমাত্র দেশের এই পরিচর্যা কেন্দ্রটি।

চার বছর আগে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের উদ্যোগে চালু করা হয় শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে দীর্ঘ পরিচর্যায় সুস্থ করার পর সময় মতো তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়।