চকরিয়ায় মাথা ন্যাড়ার হিড়িক

মুসা ইবনে হোসাইন বিপ্লবঃ- বিশ্বব্যাপী সর্বস্থরের মানুষ করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এমন সময়ে হঠাৎ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রীতিমতো মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক ও এইদৃশ্যে মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

মাথা ন্যাড়া করা ইসলামী বিধান রয়েছে, এটি ছিল হযরত আলী (রা.) এর সুন্নাত। আর মাথা ন্যাড়া করলে চুল পড়া কমে যায়, এমন কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু মাথা ন্যাড়া করলে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন; অনেকে আবার মশকরা করতে ন্যাড়া মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বিরক্ত করে বসেন। এসব কারণে অনেকে চাইলেও ন্যাড়া করতে পারেন না।

দেশের প্রায় সব জায়গায় সম্প্রতি মাথা ন্যাড়া করেছেন ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেছেন। এই অবস্থায় চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য প্রতিনিয়ত লক্ষনীয়। মাথা ন্যাড়া করেছে এমন কয়েকজনের সাথে কথা বললে তাঁরা জানায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কায় এখন সবাইকে গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে। কত দিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাঁরা স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন। বাইরে বের না হওয়ায় সামনা-সামনি কোনো বিরূপ মন্তব্য শোনার বা কারও মাধ্যমে বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তা ছাড়া সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ। দীর্ঘদিন সেলুনে যেতে না পারায় মাথায় চুল বেড়ে যাচ্ছে। গরমের এই সময়ে মাথা চুলকাচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন। কর্মস্থলে ফেরার আগেই মাথায় নতুন চুল গজিয়ে যাবে; আবার চুল পড়া বন্ধ হবে।

যাঁরা এভাবে ন্যাড়া করেছেন, তাদের একজন হলো চকরিয়া উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা হামিদুল্লাহ মিয়া অমিত, তিনি জানান ‘চুল পড়ে যাচ্ছে। শুনেছি, মাথা ন্যাড়া করলে চুল পড়া বন্ধ হয়। করোনাভাইরাসের কারণে বাড়িতেই থাকছি। ভাবলাম, এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে ফেলি। যদি সুফল পাওয়া যায়। তাই চুল ফেলে দিলাম।’

চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ মাথা ন্যাড়া করেছেন। তিনি বলেন রাজনৈতিক সভা সমাবেশ বন্ধ থাকায় এই কটা দিন বাড়িতেই আবদ্ধ। চুল বেড়ে যাওয়ায় গরমে ঘেমে মাথা চুলকাচ্ছিল। এদিকে সেলুন সব বন্ধ। চুল ছাঁটিয়ে নেওয়ার উপায় নেই। তাই সব দিক বিবেচনা করে মাথার সব চুল ফেলে দিয়ে নতুন চুল গজানোর সুযোগ নিয়ে নিলাম।

চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী এবিএম আলবেরুনী ও শাহরিয়ার আরমান এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী খন্দকার মুসা বিপ্লব তারা তিনজনই চকরিয়া পৌর ৭নং ওয়ার্ডের বিনামারা গ্রামে এসে একসাথে একে অপরের হাতে সেচ্ছায় মাথা ন্যাড়া হয়ে যায়। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কলেজ ছুটি হওয়ায় গ্রামের বাড়িতে গৃহবন্দী। কলেজ অনেক দিন ছুটি। তাই বাড়িতে এসেই আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে প্রায় ১৫ বছর পর মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছি। মাথা ন্যাড়া করা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছি। গরমে মাথা থেকে চুল ফেলে দিয়ে ভালোই লাগছে।’

ফেসবুকে মাথা ন্যাড়া অবস্থায় দেখা মেলেছে ইত্যাদি সমাচারের প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক খন্দকার মোহাম্মদ হোসাইন, চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাস্টার আনিসুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম এহসানুল হক, সোসাইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, কাকারার যুবলীগ নেতা অহিদুজ্জামান, পৌর ৭নং ওয়ার্ডের বিনামারার ইউসুফ বিন হোসাইন, আবু রাইহান, আবু মোস্তফা আসেফ, সাইমুম মেহেদী, পালাকাটার হেলাল উদ্দিন, পৌর ১নং ওয়ার্ডের মারুফ হাসান, ছাত্রলীগ নেতা ইরফানুল হক রিফাত, বোরহান উদ্দিন

সেলুনের দোকানী তপন দাস বলেন ‘বাড়ি গিয়ে চুল ছাঁটানোর জন্য দু-একজন ফোন দিচ্ছেন। পরিচিত মানুষ হলে বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছি। এ জন্য একটু বেশি টাকা নেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘সেলুন বন্ধ। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সহায়তাও তো পাচ্ছি না।

সাংবাদিক শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদ বলেন, আমি আমার পরিবারের সাত জনকে নিজ হাতে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছি। সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম এহসানুল হক বলেন আমি ও আমার দুই রছরের ছেলে সহ আমাদের পরিবারে ১১ জন মাথা ন্যাড়া করেছে।