করোনার প্রথম সংক্রমণ চীনে ঘটলেও উৎপত্তির জন্য দায়ী মার্কিন সামরিক বাহিনী!

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। বিভিন্ন দেশে এর প্রকোপ বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১২৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিশ্বের ৭৬টি দেশ ও অঞ্চলে ৯০ হাজার ৯২৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে ৪৮ হাজার মানুষ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ১৫১ এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯৪৩ জনের।

চীনের সবচেয়ে খ্যাতনামা মহামারী বিশেষজ্ঞ বা এপিডেমিওলজিস্টদের অন্যতম ডা. ঝং নানশেয়ান বলেছেন, কোভিড-১৯’র সংক্রমণের ঘটনা প্রথমে চীনে নির্ণয় করা গেলেও প্রাণঘাতী এ ভাইরাস উৎপত্তি হয়ত চীনে হয় নি। এদিকে, এ ভাইরাসের উৎপত্তি প্রকৃতপক্ষে আমেরিকায় ঘটেছে বলে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে চীনা সাইবার জগত এবং কোনও কোনও প্রচার মাধ্যমে। এ ভাইরাসের জন্য সরাসরি মার্কিন সেনাবাহিনীকেও দায়ী করা হয়েছে।

গত মাসের ২৭ তারিখে চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বা সিজিটিএন’এ সম্প্রচারিত ঝং’এর বক্তব্য প্রচার করা হয়। তিনি ব্যক্তিগত কোনও বক্তব্য বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারে করেন নি। বরং দক্ষিণাঞ্চলীয় চীনে এক সরকারি সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন ঝং। চীনা সরকারি প্রচার মাধ্যম তার এ বক্তব্য সম্প্রচার করেছে।

এদিকে, চীনে হয়ত কোভিড-১৯ ভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি বলে যে কথা বলেছেন ড. ঝং তার আগে এ জাতীয় খবর পরিবেশিত হয়েছে। চীনা ইংরেজি দৈনিক গ্লোবাল টাইমসে গত মাসের ২২ তারিখে এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশিত হয়। জাপানি টিভি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়েছে, এ ভাইরাসের উৎপত্তি হয়ত হয়েছে আমেরিকায়।

এ ছাড়া, চীনের টুইটার হিসেবে বিবেচিত সিনা উইবোতে প্রকাশিত একটি পোস্ট আরেক ধাপে এগিয়ে গেছে। এতে বলা হয়, গত অক্টোবরে চীনের উহানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্ব সামরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা দ্যা মিলিটারি ওয়ার্ল্ড গেমস। মার্কিন প্রতিনিধিরা হয়ত সে সময়ে উহানে করোনাভাইরাস নিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মিউটেশন বা পরিব্যক্তি কিংবা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ ভাইরাস প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি অর্জন করে মারাত্মক ভাবে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতাও।

অবশ্য, জাপানি টিভির খবরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি। সে খবরও প্রকাশিত হয়েছিল গ্লোবাল টাইমসে। তবে একই খবরে, কোভিড-১৯ ভাইরাসের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকেই দায়ী করেছিল চীনা দৈনিকটি।