‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে ঢাকায় বাড়িঘরে রঙ করার নির্দেশ

মুজিব জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার মূল সড়কের পাশে থাকা বাড়িঘরের দেয়াল রঙ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পত্রিকাগুলোতে এ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ডিএনসিসি। একই সঙ্গে বাড়ির মালিকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী -‘‘মুজিববর্ষ’’ উপলক্ষে শহরকে দৃষ্টিনন্দন করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ সজ্জিত ও আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। সে কারণে সড়কসমূহের পার্শ্বে বাড়ি/স্থাপনা, গেট ও বাউন্ডারি ওয়াল প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রঙ করা প্রয়োজন। এতে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘একজন সম্মানিত নাগরিক হিসেবে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমিক নাগরিকের কর্তব্য হিসেবে আগামী ১৪ মার্চ, ২০২০ তারিখের মধ্যে আপনার বাড়ি/স্থাপনার গেট ও বাউন্ডারি ওয়াল সংস্কার ও রঙ করার কাজ সম্পন্ন করে জাতির পিতার জন্মন শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান যথাযথভাবে উদযাপনে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান সড়কগুলোর পাশের ভবন মালিকরা এ নোটিশ পেয়েছেন।

কলাবাগান, ধানমণ্ডি, আজিমপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন থেকে বাড়িঘর সংস্কার ও রঙ করার তাগাদা দিয়ে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। করপোরেশনের কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়েও এজন্য তাগাদা দিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এ তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় তারা ভবন মালিকদের চুনকাম ও মেরামত করার নির্দেশ দিতে পারেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (যিনি এই বিষয়টির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন) মো. ইউসুফ আলী সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘প্রধান সড়কগুলোর পাশে যেসব বাড়ি বা ভবন রয়েছে, তাদের মালিকদের আমরা চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি যেন তারা ভবনগুলো ঠিক মতো রঙ করেন বা সংস্কার করেন।

যদিও বিশেষ একটি উপলক্ষে আমরা এই চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু আসলে নগরের সৌন্দর্যের জন্য এটা একটা নিয়মিত কাজ। স্থানীয় সরকার আইনে এ ব্যাপারে বিধান আছে।’

আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান এই রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়েছি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। তাদের আমরা বারবার অনুরোধ করবো, বাড়ি বাড়িতে যাবো। আমরা আশা করি, তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তারা আমাদের অনুরোধ রাখবেন।’

কেউ যদি এই অনুরোধ না রাখে বা ভবনের রঙ না করে, তাহলে কী হতে পারে-এই প্রশ্নের জবাবে ইউসুফ আলী সরকার বলছেন, ‘তেমনটা হবে আমরা আশা করি না। আমরা আশা করছি, সবাই অনুরোধ রাখবেন।’

স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ দ্বারা রঙ করতে বাধ্য করার ঘটনা খুব বিরল। যদিও এর আগে ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলার সময় যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সব বাড়িতে নতুন রঙ করার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার।

সেসময় বলা হয়েছিল, গাড়িতে রঙ করা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করবে। আর বাড়িতে রঙ করা না হলে সিটি করপোরেশন রঙ করে দেবে, তবে খরচ বহন করতে হবে বাড়ির মালিককে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলছেন, বাংলাদেশে এর আগে এরকম অনুরোধ জানানোর ঘটনা তিনি খুব একটা দেখেননি।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার আইনে আছে যে, যদি কোনো ভবন বিপজ্জনক হয়, জনজীবনের জন্য হুমকি হয়, ক্ষতিকর মনে হয়, তাহলে সেটার সংস্কার করার জন্য তারা আদেশ দিতে পারবে।

কিন্তু শুধুমাত্র সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বাড়ির মালিকদের রঙ করতে, সংস্কার করতে বাধ্য করার নজির বাংলাদেশে আছে বলে আমার মনে হয় না। তারা অনুরোধ করতে পারে, কিন্তু বাধ্য করতে পারে না।’

‘উন্নত দেশগুলোয় ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে সব কিছুই সিটি করপোরেশন করে। ফলে তারা ভবন সংক্রান্ত অনেক আদেশ দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে তো এই কাজটি বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে করে’ যোগ করেন ড. তোফায়েল আহমেদ।