বাচ্চা ফেলে রেখে যাওয়ার বাক্স

আমরা অনেক সময় পত্র পত্রিকায় দেখতে পাই নবজাতক সন্তানকে মা ডাস্টবিন বা অন্য কোথাও ফেলে রেখে গেছেন। সম্ভবত আর্থিক দুরবস্থা, সামাজিক অসম্মান বা অন্য যে কোন কারণে একজন গর্ভধারিনী এমনটি করতে পারেন।

বাংলাদেশের মতো ইকুয়েডরেও আছে এমন সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে গত ডিসেম্বরে দেশটির এক আশ্রয়কেন্দ্রে নবজাতক রেখে যাওয়ার বাক্স বসানো হয়েছে।

বাক্সের বাইরে উপরের দিকে একটি বাটন লাগানো আছে যাতে টিপ দিলে বাক্সের দরজা খুলে যায়। এরপর একজন মা সেখানে তার বাচ্চাটি অনায়াসে শুইয়ে রেখে যেতে পারেন। বাক্সের ভিতর মায়ের জন্য এটি চিঠি রাখা আছে। চিঠিটি নিয়ে মা সেখানে বাচ্চাটিকে রাখতে পারেন।

চিঠিতে মাকে এই বলে আশ্বস্ত করা হয় যে, বাচ্চাটি আশ্রয়কেন্দ্রে ভালো থাকবে। তার কোনও অযত্ন হবে না। আর গোটা বিষয়টি সম্পন্ন হয় খুব গোপনে।

ফলে যে মা বাচ্চাটিকে ফেলে রেখে যান তার পরিচয় কেউ জানতে পারেন না, যদি তিনি না চান। মা চলে যাওয়ার পর বাক্সটি থেকে নানেরা বাচ্চাটিকে তুলে নেন এবং তিন মাস পর্যন্ত নিজেদের কাছে রেখে দেন। এর মধ্যে মা ইচ্ছা করলে বাচ্চাকে ওই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন। আর তেমনটি না হলে বাচ্চাটিকে দত্তক দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ ধরনের বাক্স যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই আছে। সেখানে গর্ভপাতের বিকল্প হিসাবে অনেক মা এমন সুবিধা নিয়ে থাকেন। তবে ইকুয়েডরের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা এই প্রথম।

সন্তান জন্ম দেয়ার পর নবজাতক পালনে অক্ষম মায়েদের জন্য এই সুবিধা দিচ্ছে ইকুয়েডরের ওই আশ্রয়কেন্দ্র। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।