কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর যেতে এবার সময় লাগবে মাত্র ৩ ঘণ্টা

কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর এখন যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে তিন ঘন্টা। সৌজন্যে বাঙালি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন সিনহা। চলতি সপ্তাহেই এই পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে বলে রাজ্য পরিবহন দফতর সূত্রে খবর।
কথায় আছে সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। কারণ এটি এমন ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে যে এখানে পৌঁছন বেশ কষ্টসাধ্য। সেই কষ্ট লাঘব করতেই এবার চালু হয়ে যাচ্ছে বিলাসবহুল জাহাজ। এমনই জাহাজ যা নদী ও সমুদ্রে স্বচ্ছন্দে চলতে পারে।
সূত্রের খবর শুক্রবার এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। কলকাতার বাঙালি মেরিন ক্যাপ্টেন অঞ্জন সিনহা, মুম্বাইয়ের এক সংস্থার সাথে যুক্ত হয়ে এই পরিষেবা চালু করছে। প্রতিদিন সকাল ৭টায় ছাড়বে এই জলযান। মিলেনিয়াম পার্ক জেটি থেকে ছাড়বে এই জাহাজ। সাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে পৌছবে এই জাহাজ পৌছবে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ। আর যারা সুন্দরবন যেতে চান তাদের পৌছে দেওয়া হবে নামখানা জেটিতে।
কলকাতায় জাহাজ ফিরবে রাত ৮টার মধ্যে। কচুবেড়িয়া থেকে জাহাজ ছাড়বে বিকেল ৩:৩০ টে নাগাদ। যাত্রীদের মাথাপিছু এই ট্রিপে খরচ পড়বে মাত্র ১০০০ টাকা। ইতিমধ্যেই জাহাজটিকে নিয়ে আসা হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে। বিলাসবহুল এই জাহাজে রয়েছে বসার জন্য ১৫৬ টি আসন। যাত্রীদের বসার জায়গা পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। থাকবে ৪ টি শৌচাগার। থাকছে টিভি। এছাড়া থাকছে দুটি জায়ান্ট স্ক্রিন। যাতে ক্রিকেট বা ফুটবল বা টেনিস ম্যাচ বা সিনেমা দেখানো হবে।
যাত্রীদের দেওয়া হবে স্ন্যাকস ও মিনারেল ওয়াটার বোতল। জাহাজের গড় গতিবেগ হবে ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার। নদীর নাব্যতার কথা বিচার করে মাত্র ১.৫ মিটার অংশ থাকবে জলের তলায়। অঞ্জন সিনহা জানাচ্ছেন, “বিলাসবহুল এই জাহাজে করে দেশি-বিদেশি বহু ট্যুরিস্ট আসবে। তাতে রাজ্যের পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। ইতিমধ্যেই অনেকে আমার সাথে যোগাযোগ করেছেন।” এখন গঙ্গাসাগর যাওয়ার উপায় তিনটে। প্রথমত, হেলিকপ্টার পরিষেবা। যদিও তাতে খরচ অনেক বেশি।
দ্বিতীয়ত, সড়কপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা। বাসে করে লট ৮, সেখান থেকে লঞ্চ পেরিয়ে আবার গাড়ি বা বাস। তৃতীয়ত শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে নামখানা। সেখান থেকে লট এইট। আবার ভেসেল পেরোনো। এই লট এইটে মুড়িগংগা থেকে কচুবেড়িয়া যেতেই প্রচুর সময় লেগে যায়। কারণ জোয়ার ভাটার ওপর এই যাত্রা। সাধারণত সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা যেতে লাগে গঙ্গাসাগর। কখনও তা ৯ ঘন্টা অবধি হয়ে যায়। ফলে কলকাতা থেকে সরাসরি জাহাজ চালু হয়ে গেলে অনেক সহজেই যাতায়াত করা যাবে বলে মত অঞ্জন বাবুর।
রাজ্যের পর্যটনের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা অবশ্য খুশি এই পরিষেবা চালু নিয়ে। একদিকে নদী অন্যদিকে গঙ্গাসাগর এই দুই মিলিয়ে রাজ্যের বিকাশ হবে বলে মত তাদের।