‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে মনমোহনকে খোঁচা মোদির

ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানটির অপব্যবহার করা হচ্ছে ভারতে৷ ওই স্লোগানের মাধ্যমে উগ্রপন্থার ধারণা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে৷ গত সপ্তাহে এই মন্তব্য করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷ মঙ্গলবার মনমোহনকেই টার্গেট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷
এ দিন বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, ‘ভারত মাতা কি জয়’ নিয়ে এখন অনেকে আপত্তি করছেন৷ আগে ‘বন্দে মাতরমে’ আপত্তি তোলা হত৷ একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখার জন্যও বিজেপি সাংসদদের বার্তা দেন মোদি৷
জওহরলাল নেহরুর কাজ ও বক্তৃতা নিয়ে একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং বলেছিলেন, ‘বিশ্বের দরবারে ভারতের ভদ্রতা ও গণতন্ত্রের সুনাম রয়েছে৷ ভারতকে এই রকম গড়ার জন্য দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের মনে রাখতেই হবে৷ নেহরু অননুকরণীয় স্টাইল, একাধিক ভাষা জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক ভারতের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিলান্যাস করেছিলেন৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সমাজের একটি অংশের মানুষের ইতিহাস পড়ার ধৈর্য নেই৷ তাঁরা নেহরুকে মিথ্যাচারি প্রমাণ করতে মরিয়া৷ তবে আমি নিশ্চিত, নেহরু নিয়ে ভুয়ো বক্তব্য খারিজ করবে ইতিহাসই৷’
‘‌কে ভারতমাতা?‌’ নামক বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানে মনমোহন সিং বলেন, ‘‌ভারতে গণতন্ত্র নিয়ে আসার পিছনে একমাত্র হাত পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর। তিনিই সব সময় চেয়েছিলেন যেন দেশের বৈচিত্র বজায় থাকে। এত ধর্ম, এত ভাষা এ দেশের গর্ব বলে তিনি মনে করতেন। দেশের এই কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে এই বইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমগ্র ভারত ও বিশ্বের সকলের কাছে এই বার্তা পৌঁছনো খুব জরুরি যে, পণ্ডিত নেহরু সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদকে দূরে রেখে গান্ধির মতাদর্শে দেশকে চালনা করেছিলেন। আর তাতেই দেশে সম্প্রীতি বজায় ছিল।‌’‌‌
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিকাশ আমাদের মন্ত্র৷ শান্তি, সম্প্রীতি উন্নয়নের জন্য জরুরি৷ বিজেপির কাছে আগে জাতীয় স্বার্থ৷ তারপর দলের স্বার্থ৷’