দুদকের মামলায় স্ত্রীসহ সাবেক সাংসদ আউয়াল কারাগারে, সড়ক অবরোধ

পিরোজপুরে দুদকের মামলায় সাবেক সাংসদ আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তাঁর অনুসারীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর সদরের পাড়েরহাট সড়কে। ছবি: এ কে এম ফয়সাল
পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এ কে এম এ আউয়াল এবং তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীনকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আউয়াল তিনটি মামলায় ও তাঁর স্ত্রী একটি মামলায় পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. আবদুল মান্নান জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. আলী আকবর বাদী হয়ে আউয়ালের বিরুদ্ধে খাস জমিতে ভবন নির্মাণ, অর্পিত সম্পত্তি ও পুকুর দখলের দখলের অভিযোগে তিনটি মামলা করেন। একটি মামলায় আউয়ালের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী পিরোজপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী লায়লা পারভীনকেও আসামি করা হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি আউয়াল ও লায়লা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন নেন। আজ ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাঁরা পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

আউয়ালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর পিরোজপুর হুলারহাট সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। এ ছাড়া পিরোজপুর-পাড়েরহাট সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। এসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শহরের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। বেলা একটার দিকে শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাব সড়কে প্রতিবাদ মিছিল করেন আউয়ালের অনুসারীরা।

দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মামলার মধ্যে প্রথম মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে এ কে এম এ আউয়াল ও তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীন প্রভাব খাঁটিয়ে নাজিরপুর উপজেলার বুইছাকাঠি মৌজায় দশমিক শূন্য ৩ একর খাসজমি বেনামে বন্দোবস্ত নেন। পরে ওই জমিতে পাকা দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে ভাড়া দেন। এ ঘটনায় আউয়াল ও তাঁর স্ত্রী লায়লা পারভীনকে আসামি করা হয়। অপর দুই মামলায় শুধু আউয়ালকে আসামি করা হয়। ওই দুই মামলায় বলা হয়েছে, পিরোজপুর পৌরসভার খুমুরিয়া মৌজায় রাজার পুকুর নামে পরিচিত অর্পিত সম্পত্তির ৪৪ শতাংশ জমি দখল করে চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করেন আউয়াল। এ ছাড়া নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি মৌজায় দশমিক ৫ একর অর্পিত সম্পত্তি বন্দোবস্ত নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে আউয়াল ফাউন্ডেশনের নামে দ্বিতল পাকা ভবন করেন তিনি।

পিরোজপুর-১ আসনে ২০০৮ সালে আউয়াল প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন।