করোনাভাইরাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির উপদেষ্টার মৃত্যু

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বেতারে এ কথা জানানো হয়েছে।
দুবাইভিত্তিক দৈনিক খালিজ টাইমস বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বেতারের খবরে বলা হয়, করোনাভাইরাসে (কোভিড–১৯) আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ নেতা খামেনির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মীর মোহাম্মদি মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে।
কোনো বিষয় নিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনির মতপার্থক্য হলে ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’ তার সমাধান করে। এই কাউন্সিল মূলত খামেনির উপদেষ্টা পরিষদ হিসেবে কাজ করে। সেই কাউন্সিল বা পরিষদের সদস্য ছিলেন মীর মোহাম্মদি।

নতুন করোনাভাইরাসে চীনের পর ইরানে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মীর মোহাম্মদিই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, যিনি করোনাভাইরাসে প্রাণ হারালেন।

ইরানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাসুমেহ ইবতেকারও আছেন, যিনি ‘সিস্টার মেরি’ বলেও পরিচিত। মাসুমেহ ইবতেকার ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে ৪৪৪ দিনের জিম্মি নাটকের সময় অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজিতে চমৎকারভাবে কথা বলতে পারার দক্ষতার কারণে তাঁকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ইরান সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান ইরাজ হারিরচি এই ভাইরাসের সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ইরান কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৯৭৮ জন। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইরান থেকে ফিরে যাওয়া যাত্রীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। গতকাল প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ওই ব্যক্তিও ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদি আরবে ঢোকেন বলে জানিয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ, যা সংক্রমণের শিকার বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

করোনাভাইরাস বিষয়ে সোমবার অনলাইন ব্রিফিং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাসি মৌসাভি। তিনি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সহায়তার প্রস্তাব নাকচ করে দেন। মৌসাভি বলেন, ‘আমাদের এ ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। মৌখিক সহানুভূতিও গ্রহণেও প্রস্তুত নই আমরা।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো পদক্ষেপকেই ইরান ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে বিবেচনা করে। মৌসাভি অভিযোগ করেন, ইরান যে মনোবল নিয়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে, যুক্তরাষ্ট্র সেই মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে যুক্তরাজ্য দেশটি থেকে সব কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু হলেও জরুরি কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু কর্মী সেখানে অবস্থান করবেন।

এ ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইরানে ইতিমধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বড় আকারে জমায়েত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার ৯০ শতাংশই চীনের হুবেই প্রদেশে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, সেনেগাল, জর্ডান, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল, আর্মেনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও অ্যান্ডোরা।

বিবিসি বলছে, গতকাল পর্যন্ত ইতালিতে ৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আর আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃত ব্যক্তির সংখ্যা ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৭৬। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।