সৌদি আরবে করোনাভাইরাস শনাক্ত, আক্রান্ত ব্যক্তি ইরান থেকে প্রবেশ করেন

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে (কোভিড ১৯) আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ কথা জানিয়েছে।

সৌদি আরবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল টুইটার বার্তায় বলা হয়, আক্রান্ত ব্যক্তি সৌদি আরবেরই নাগরিক। ওই ব্যক্তি ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদি আরবে ঢোকেন। সৌদি আরবে ঢোকার সময় তিনি ইরান সফরের কথা গোপন করেন। তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাসে চীনের পর ইরানেই মৃত্যু হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও অনেক। উপসাগরীয় দেশগুলোর কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হওয়া রোগীরাও সম্প্রতি ইরান সফর করেন বলে জানানো হয়।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গত সপ্তাহে সৌদি আরব বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এর অংশ হিসেবে ওমরাহ ও টুরিস্ট ভিসা স্থগিত করে দেশটি। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি পবিত্র হজ পালন করতে মক্কা-মদিনায় যান। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি ওমরাহ পালন করতে সৌদিতে যান। পর্যটক টানতে গত বছরের অক্টোবরে ৪৯ দেশের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালু করে সৌদি আরব।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোববার জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ২৫টি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে কোয়ারেনটাইনের জন্য দুই হাজার ২০০ শয্যা প্রস্তুত রয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার আরও দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৯-এ দাঁড়িয়েছে। সোমবার শনাক্ত হওয়া দুই রোগীর একজন বাহরাইনি নারী, অন্যজন সৌদি পুরুষ। তাঁরা ইরান থেকে উড়োজাহাজে বাহরাইনে পৌঁছান। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। যার ৯০ শতাংশই চীনের হুবেই প্রদেশে। সোমবার পর্যন্ত বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো হলো: ইন্দোনেশিয়া, সেনেগাল, জর্ডান, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল, আর্মেনিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও অ্যান্ডোরা।

বিবিসি বলছে, সোমবার পর্যন্ত ইতালিতে ৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আর আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪৭৬। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।