ওয়েস্টিন-ই ছিল পাপিয়ার সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সদর দপ্তর

বর্তমানে আলোচিত নাম যুব মহিলা লীগের সদ্যবহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া। অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকার পৃথক তিন মামলায় রিমান্ডে আছেন তিনি। রিমান্ডে পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তবে গুরুতর অপরাধ সম্পর্কিত প্রশ্নে নীরব থাকছেন তিনি। কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন কৌশলে। আবার প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্নও করছেন তিনি। সর্বশেষ জানা গেল, গুলশানের ‘হোটেল ওয়েস্টিন’ই তার সব ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সদর দপ্তর ছিল।

অর্থ আর দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এখান থেকেই বিভিন্ন হোটেল ও আবাসিক এলাকায় বিস্তৃত করা হয় সম্রাজ্য। আড়ালে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ওয়েসটিন কর্তৃপক্ষ।

একজন জেলা পর্যায়ের নেত্রীর পরিচয়ে রাজধানীর গুলশান এলাকায় কিভাবে সম্ভব! তদন্ত করতে গিয়ে অবাক হয়েছেন কর্মকর্তারা। সহযোগি ছাড়াও পাঁচ তারকা হোটেলে পাপিয়ার বালাখানায় কারা আসা যাওয়া করতো তালিকা ধরে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

সুন্দরী তরুনীদের দিয়ে ব্যবসায়ী,সমাজের গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নরসিংদীর ‘ট্যাটু বাহিনী’ প্রধান পাপিয়া। চাকরি দেয়ার নাম করে অসহায় সুন্দরী তরুনীদের ওয়েস্টিন হোটেলে এনে বাধ্য করা হতো অনৈতিক কাজে।

এসব তরুনীদের ঘিরেই বিকৃত রঙ্গমঞ্চ তৈরি করা হয় হোটেলের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে। আর এখানে পাপিয়া বাহিনীর কর্মকাণ্ড ছিলো ওপেন সিক্রেট। শুধু খদ্দের আনাই নয়, বিশেষ কক্ষে ওয়েস্টিনের কর্নধার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আলীর সঙ্গেও খোলামেলা খোশগল্পে মেতে উঠতো কথিত যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়া।

যে ভিডিও এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে পাপিয়ার সাথে ওয়েস্টিন কর্ণধারের ঘনিষ্ঠতার চিত্র ফুটে উঠে। পাপিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতার ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ব্যাপারে জানতে বারবার যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আলীর।

গেল জাতীয় নির্বাচনে দোহার নবাবগঞ্জ এলাকায় একজন প্রার্থীকে কিভাবে কোটি কোটি টাকা আর জাল ভোটের মাধ্যমে পাস করিয়েছেন সে কথাই অবলিলায় বলা হচ্ছে পাপিয়াকে।