নারীদের প্রতি আকর্ষণ নেই কোন পুরুষের? প্রশ্ন পাপিয়ার

অর্থপাচার, বিদেশি জাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে রিমান্ডে থাকা শামীমা নুর পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে গুরুতর অপরাধ সম্পর্কিত প্রশ্নে নিরব থাকছেন তিনি। কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন কৌশলে। আবার প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্নও করছেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের করা যৌনব্যবসা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নারীদের প্রতি আকর্ষণ কার নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে পাপিয়া বলেন, ‘নারীদের প্রতি আকর্ষণ কার নেই। এখন সব দোষ পাপিয়ার হবে কেন? প্রায় পুরুষই নারীলোভী।’

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, কয়েক প্রভাবশালী নেতা ও ব্যবসায়ীদের নামও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাদের আগ্রহেই রুশ যৌনকর্মীদের ঢাকায় এনেছিলেন বলেও জানিয়েছেন পাপিয়া- এমনটাই বলা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থপাচার, বিদেশি জাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে র‌্যাব-১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে পাপিয়া, তার স্বামী ও দুই সহযোগীকে।

পরে তাদের নিয়ে ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পিস্তল, গুলি, মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি এবং শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব।

তিন মামলায় পাপিয়াসহ চারজন ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। মামলাটি এখন ডিবিতে রয়েছে। এছাড়া পাপিয়াসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে র‌্যাব।

গ্রেফতারের পর যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী পাপিয়ার সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তার সম্পদের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি কাদের সহায়তায় এসব সম্পদ অর্জন করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হবে। তার সঙ্গে যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেছেন, পাপিয়ার বিরুদ্ধে যেকেনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখে জড়িত প্রমাণ পেলে পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ শুক্রবার আশুলিয়ায় একটি মাদরাসার ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পাপিয়ার সঙ্গে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।