চাঞ্চল্যকর ফাতেমা হত্যা মামলায় স্বামীসহ ২ আসামি গ্রেফতার

গাজীপুরে চাঞ্চল্যকর ফাতেমা (৩৪) হত্যা মামলায় স্বামীসহ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার সকালে সাভার ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে নিহতের স্বামী লালমনিরহাট সদরের বলিরামগ্রামের মো. ইসমাইল হোসেনের ছেলে গাড়ি চালক মো. এনামুল হক (৩৫) ও তার সহযোগী গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ভান্নারা এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মো. নাজমুল হোসেন (২৮)। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজির করা হলে আসামিরা আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-এর পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন জানান, গত বছর পহেলা জুলাই কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব ভান্নারা এলাকায় বনের ভিতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ হেড কোয়াটার্সের নির্দেশে পিবিআই গাজীপুর জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসির আহমেদ সিকদারের তত্ত¡াবধানে এ মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে নিহতের স্বামী এনামুল হককে বুধবার সকালে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে তার সহযোগী নাজমুলকে শ্রীপুরের নয়নপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে গাজীপুর আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিতে এনামুল হক জানায়, ২০১২ সালে আশুলিয়ার বাইপাল থেকে বাসে করে স্বামীর বাড়ি কুড়িগ্রাম যাওয়ার পথে বাসে গার্মেন্টস শ্রমিক ফাতেমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

ওই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরী হয় এবং এনামুল ফাতেমাকে বিয়ে করে। ফাতেমা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এক পর্যায়ে ফাতেমা অজ্ঞাতস্থানে চলে গেলে ফাহিমা নামে অপর এক নারীকে বিয়ে করে এনামুল। এক বছর পর ফাতেমা ফিরে এলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে। কিছুদিন পর ফাতেমাকে তার বাপের বাড়ি সাতক্ষীরায় রেখে আসে এনামুল। পুনরায় এক বছর পর গাবতলীতে এসে ফাতেমা এনামুলের সঙ্গে আবার দেখা করে তার সঙ্গে সংসার করতে চায়।

এ নিয়ে তাদের সংসারের তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হলে সে স্ত্রী ফাতেমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এ হত্যাকান্ডের জন্য তার সহযোগী নাজমুলের সাহায্য চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ি ২০১৯ সালের ৩০ জুন সহযোগী নাজমুলকে নিয়ে কালিয়াকৈরের পূর্ব ভান্নারা এলাকায় বনের ভিতর নিয়ে দু’জনে মিলে ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ পর দিন অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হয়। পিবিআই ৮মাস পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রহস্য উদঘাটন করে ফাতেমার স্বামী এনামুল ও তার সহযোগী নাজমুলকে গ্রেফতার করে।